নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ফেলছে ঢাবি
Fazlul Kabir সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলকে প্রায় এক বছর আগে শিক্ষার্থীদের লেখা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামটি মুছে ফেলছে হল প্রশাসন। নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় নামফলকে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখা হচ্ছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হলটির নামফলক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা মুছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ লেখার কাজ চলতে দেখা যায়। হলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনের উদ্যোগেই নামফলকটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম থেকে ‘জাতির জনক’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দ দুটি বাদ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর হলটির আনুষ্ঠানিক নাম হয় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’।
এর চার মাস পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে তার নামে হলটির নামকরণের দাবি ওঠে। ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পরদিন হল সংসদের নেতারা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে দেন।
একই সময়ে একদল শিক্ষার্থী হলের নামফলক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে দেন। হলের ভেতরে থাকা শেখ মুজিবের দুটি গ্রাফিতিও মুছে ফেলা হয়। পরে নামফলকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখা হয়।
তখন হল সংসদ ও ডাকসু নেতারা এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতিফলন হিসেবে দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে হলটির নাম পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন, হল সংসদের উদ্যোগ এবং ডাকসুর দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক ফোরামে আলোচনা হয়।
চলতি বছরের ২৯ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই অধিবেশনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, সিন্ডিকেট থেকে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হলেও তখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ওই অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ কয়েকজন প্রতিনিধি। ইসলামী ছাত্রশিবিরের এসব নেতা শেখ মুজিব ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনেরও দাবি জানান।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ তখন বলেন, তাদের মূল দাবি ছিল হলটির বর্তমান নাম পরিবর্তন করা। নতুন নাম কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে হতে হবে—এমনটি তাদের একমাত্র দাবি নয়।
তবে সিনেটে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে বহাল রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে লেখা ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক থেকে সরিয়ে আবারও আনুষ্ঠানিক নামটি লেখা হচ্ছে।