ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসি-সরকারের সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে এসেছে। ইসির ঘোষিত সময়সূচি সম্পর্কে সরকার কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। অন্যদিকে ইসি জানিয়েছে, ঘোষিত সময়সূচি এখনো প্রাথমিক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে তা চূড়ান্ত করা হবে।

সোমবার ইসি সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করে। ঘোষিত সময় অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে সরকার বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না। এ বিষয়ে ইসির সঙ্গে সরকারের কোনো চিঠি আদান-প্রদান বা আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর কিছু সময় পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ঘোষিত সময়সূচি একেবারেই প্রাথমিক। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (প্রতিমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য।’

ইসি সূত্র জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদনের দায়িত্ব ইসিকে দেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান নির্ধারণের ক্ষমতাও ইসির রয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করার রীতি রয়েছে। এবার এখনো এ ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। যদিও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য জানতে ইসি গত জুলাইয়ে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল। এর জবাবে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো হলেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কিছু তথ্য এখনো ইসির হাতে পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘোষিত সম্ভাব্য সময়সূচির দুটি তারিখ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় বিএনপির কয়েকজন নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিবর্তন না হলে ওই দিন ভোট আয়োজন করা কঠিন হতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে ইসি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলটি অভিযোগ করেছে, সরকারের প্রভাবের কারণে ইসি স্বাধীনভাবে ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তবে এটি দলটির রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; এ বিষয়ে ইসি বা সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সব মিলিয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠকের পর সম্ভাব্য সময়সূচি চূড়ান্ত হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।