সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে তুমুল হট্টগোল, গালাগালের অভিযোগ
Fazlul Kabir সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হইচই ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদ ও হট্টগোল শুরু করলে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা।
আজ বুধবার ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের আলোচনায় এ ঘটনা ঘটে।
বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিটি সরকারেরই একটি নির্দিষ্ট চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট হবে না—এমনটা হতে পারে না। বিএনপি সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া এবং ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি হওয়া।
রুমিনের এসব বক্তব্যের সময় বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রুমিন বলেন, সংসদে এমন অসহিষ্ণু আচরণ তাঁকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি এখন আরও খারাপ আচরণ করছে।
এরপর রুমিন বলেন, সংসদের বেশির ভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটাতে আদালতে রিট করার ঘটনা পুরোনো সংস্কৃতি।
একপর্যায়ে তাঁর নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রুমিন মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
রুমিনের অভিযোগের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদও দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালি দেওয়া যায় না।
হট্টগোলের মধ্যে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তা খণ্ডন করা যেতে পারে, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।
ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ করে বলেন, সংসদ সদস্যদের বক্তব্য উপস্থাপনের স্বাধীনতা রয়েছে। বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা স্পিকারের চেয়ার থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। তবে বক্তব্যে বাধা দেওয়া ঠিক নয় এবং চিফ হুইপ হিসেবে সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখাও তাঁর দায়িত্ব।
পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার জবাব দিতে পারেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হট্টগোলের কারণে রুমিন আদৌ তাঁর বক্তব্য ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন কি না।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। তবে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে তা দুঃখজনক।
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হট্টগোলের কারণে আলোচনার বিষয়টি তিনি বুঝতেই পারেননি। তিনি এটিকে দুঃখজনক ও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরে রুমিন ফারহানা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।