বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল নেপাল: আত্মাহুতির চেষ্টায় দুই তরুণের মৃত্যু, প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
Fazlul Kabir জুলাই ১৩, ২০২৬![]()
বেকারত্ব, অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং তরুণদের ক্রমবর্ধমান হতাশাকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নেপাল। গত তিন দিনে দেশটির তিন যুবক শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছেন এবং অপর একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর পর প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতা এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন।
প্রধান বিরোধী দল নেপালি কংগ্রেস বলেছে, বালেন শাহর সরকার দেশের তরুণদের মধ্যে আশা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের সংগঠন ‘জেন-জি নেপাল’ অভিযোগ করেছে, সরকার গণবিরোধী ও স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং বাজেট ও নীতিমালায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আয় বাড়ানোর জন্য কোনো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে ২০২৩ সালে প্রেম আচার্যের আত্মাহুতির ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। সে সময় কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন শাহ ওই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক আত্মাহুতির চেষ্টার ঘটনায় তার নীরবতা বিরোধী দল ও বিক্ষোভকারীদের সমালোচনার মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নেপালের তরুণদের অবনতিশীল মানসিক স্বাস্থ্য, দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ সতর্ক করে বলেছে, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহর পরিচ্ছন্নতা, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বালেন শাহ। পরে গত ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনে তার দল বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে এবং মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি নেপালের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা মোকাবিলায় সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।