চলমান সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: যুদ্ধের অবসান, খুলছে হরমুজ প্রণালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার ভোররাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি। এর মধ্যেই ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সমঝোতা স্মারকের ১৪টি মূল বিষয় প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ফেব্রুয়ারির পর থেকে কার্যত অচল হয়ে থাকা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জলপথ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ব্যবস্থাপনায় পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা। একই সঙ্গে ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না।

মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্ত করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার আগে চূড়ান্ত সমঝোতা আলোচনা শুরু হবে না।

পড়ুন:  হরমুজে আটকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’: মিসাইল আতঙ্কে গভীর সমুদ্রে ৩১ বাংলাদেশি নাবিক

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ঘোষণা করেন যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “অন্যরা যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আমি সফল হয়েছি। এই মহান চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।”

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী শুক্রবার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের পর বৈশ্বিক তেল পরিবহন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।

অন্যদিকে এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ডানপন্থী রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু করেছে।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কট্টরপন্থীরা এই চুক্তিকে ইরানের জন্য কূটনৈতিক বিজয় এবং ইসরায়েলের জন্য ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই সমঝোতার ফলে ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করতে হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেনা প্রত্যাহারের চাপও তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা হ্রাস পেতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে।