সোলার প্যানেলের ওপর কর প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজারে জনসমাগম ও মানববন্ধন
কক্সবাজার, ২৪ মে ২০২৬: সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত আমদানি কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে কক্সবাজারে জনসমাগম ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সংগঠকরা বলেন, উচ্চ করের কারণে সোলার প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সংশপ্তক কক্সবাজার, ক্লিন (CLEAN) এবং বিডাব্লিউজিইডি (BWGED)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ও সরকারি ভর্তুকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ২১ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে রুফটপ সোলার হতে পারে দেশের জন্য টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। কিন্তু সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ওপর অতিরিক্ত কর ও শুল্ক আরোপের ফলে এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত পরিবার সোলার প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হলেও বাস্তবে তা স্থাপন করতে পারছেন না।
বক্তারা অবিলম্বে সোলার প্যানেল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রাংশের ওপর থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি আগামী জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ প্রণোদনা, কর অবকাশ এবং সহজ ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরাম, কক্সবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট আব্দুর শুক্কুর, এডভোকেট মফিজুল আলম, রাখাইন টেকসই উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মনথেহ্ল্যা রাখাইন, হেল্প ইউথ ক্লাবের সভাপতি ইব্রাহিম বাবু, ছাত্রনেতা হুমায়ুন কবির হিমু, স্টুডেন্ট প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ উল্লাহ এবং সংবাদকর্মী আনোয়ার হোসেন। মানববন্ধন পরিচালনা করেন মিজানুর রহমান বাহাদুর।
মানববন্ধনটি কক্সবাজারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।

