আন্তর্জাতিক মা দিবসে একজন ফিরোজার গল্প -ফজলুল কবির মিন্টু

আজ আন্তর্জাতিক মা দিবস। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর দিন। মা মানেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সীমাহীন ত্যাগ আর অদম্য সাহসের প্রতীক। কিন্তু আমাদের সমাজে এখনও অনেক নারীকে মাতৃত্বের কারণেই বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হতে হয়। এমনই এক সংগ্রামী মায়ের নাম ফিরোজা আক্তার।
ফিরোজা আক্তার টি কে ফুট ওয়্যার লিঃ-এ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালে প্রথমবার অন্তঃসত্তা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নেমে আসে কঠিন বাস্তবতা। মাতৃত্বের এই আনন্দময় সময়টিই তাঁর জন্য হয়ে ওঠে চাকরি হারানোর কারণ। নানা অজুহাত ও সাজানো অভিযোগ তুলে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
একজন নারীর জন্য এটি শুধু চাকরি হারানোর ঘটনা ছিল না; এটি ছিল তাঁর মাতৃত্ব, সম্মান ও অধিকারকে অস্বীকার করার নির্মম উদাহরণ। অনেকেই হয়তো এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়তেন। কিন্তু ফিরোজা হার মানেননি। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন।
দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি সাহস, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে লড়ে গেছেন। আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ থেকে সরে যাননি। এই দীর্ঘ সময়ের প্রতিটি দিন ছিল একেকটি কঠিন পরীক্ষা।
অবশেষে ন্যায়বিচার এসেছে। ইতিহাস যেন এক প্রতীকী উত্তর দিয়েছে—যে নারী প্রথমবার মা হওয়ার কারণে চাকরি হারিয়েছিলেন, সেই ফিরোজাই সাত বছর পর রায় পেয়েছেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন।
ফিরোজা আক্তারের এই বিজয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সকল শ্রমজীবী নারী, কর্মজীবী মা এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর গল্প আমাদের শেখায়—মাতৃত্ব কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। একজন নারী মা হওয়ার কারণে কখনও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে পারেন না।
আন্তর্জাতিক মা দিবসে ফিরোজা আক্তারের গল্প আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়—সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার কতটা নিরাপদ? মায়েদের প্রতি প্রকৃত সম্মান তখনই নিশ্চিত হবে, যখন মাতৃত্ব কোনো নারীর দুর্বলতা নয়, বরং তাঁর মর্যাদা ও অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
সব সংগ্রামী মায়ের প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
