চলমান সংবাদ

ভাতা থাকা সত্ত্বেও এমপিদের গাড়ি দাবি ঘিরে বিতর্ক

জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পরও সরকারি গাড়ির দাবি ওঠায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) সংসদে এই দাবি তোলেন, যা আংশিক সমর্থন করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

মঙ্গলবার সংসদের অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো গাড়ির ব্যবস্থা করা উচিত। তাঁর বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান কিছু সদস্য। এ সময় শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, “ছোটদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়”, যা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মাসিক ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা পাওয়ার পরও কেন নতুন করে গাড়ির দাবি উঠছে।

পরদিন সংসদে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিনি শুল্কমুক্ত গাড়ি চাননি; বরং জেলা প্রশাসক (ডিসি), ইউএনও বা অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এদিকে Transparency International Bangladesh-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ দাবিকে নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভাতার পরও গাড়ি চাওয়া যুক্তিসঙ্গত নয় এবং এতে সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তার ভূমিকার পার্থক্য উপেক্ষিত হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে শফিকুর রহমান নিজেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, তাঁর দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না। সেই অবস্থানের পরও একই জোটের একজন সদস্যের কাছ থেকে গাড়ির দাবি আসায় সমালোচনার মাত্রা আরও বেড়েছে।

গাড়ির দাবির পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের জন্য উপজেলা পরিষদে ‘পরিদর্শন কক্ষ’ স্থাপনের সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলা পরিষদে এমপি ও মন্ত্রীদের জন্য আলাদা কক্ষ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর সংসদ সদস্যদের প্রভাব বাড়তে পারে এবং বিকেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বর্তমানে আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতন ছাড়াও বিভিন্ন খাতে ভাতা পান—যার মধ্যে রয়েছে ৭০ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা, নির্বাচনী এলাকা ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, টেলিফোন ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা। এছাড়া পাঁচ বছরে একবার শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ও বিমাসুবিধাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই নতুন করে গাড়ির দাবি তোলার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তুলেছে—এটি প্রয়োজনীয়তা, নাকি অতিরিক্ত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা।