চলমান সংবাদ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে লঞ্চভাড়া ৪২% পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব

-ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, ভাড়া সমন্বয়ের দাবি লঞ্চ মালিকদের

দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করায় লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি প্লেট, এল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রংসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি যাত্রায় অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় বাড়ছে। সংগঠনের মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল রুটে একটি লঞ্চ চলাচলে ৬ থেকে ৭ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত এই ব্যয় তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে যাত্রীভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এছাড়া সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা কমে গেছে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় লঞ্চ মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় ভাড়া সমন্বয় না করলে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংস্থাটির পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

পড়ুন:  বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে আটলান্টায় কবিতা ও গানের প্রতিবাদী আয়োজন

বিআইডব্লিউটিএ নৌপথে যাত্রীভাড়া নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে এবং অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা নদীবন্দর, টার্মিনাল ও নৌযানে প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে।