চলমান সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বিজ্ঞানীদের রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ: তদন্তের নির্দেশ Donald Trump-এর

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক ও মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট Donald Trump। বিষয়টিকে তিনি “গুরুতর” বলে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি এ বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন এবং দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি জানার আশা করছেন। তিনি বলেন, “এটি বেশ গুরুতর বিষয়। আমি আশা করি, আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যেই আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাব।”

২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ১০ থেকে ১২ জন বিজ্ঞানী রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই পারমাণবিক অস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

নিখোঁজ ও নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি ক্যাম্পাসের কন্ট্রাক্টর স্টিভেন গার্সিয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম ম্যাককাসল্যান্ড, লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সাবেক কর্মী অ্যান্থনি চাভেজ এবং প্রশাসনিক সহকারী মেলিসা ক্যাসিয়াস। এছাড়া NASA-এর জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক মনিকা জাসিন্টো রেজা হাইকিং করতে গিয়ে নিখোঁজ হন।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণ করা বিজ্ঞানীদের মধ্যে রয়েছেন এমআইটির প্লাজমা সায়েন্স অ্যান্ড ফিউশন সেন্টারের পরিচালক নুনো লোরেইরো, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমায়ার এবং ক্যানসার গবেষক জেসন থমাস।

সবশেষে ৩৪ বছর বয়সী বিজ্ঞানী অ্যামি এস্করিজকে নিজ বাসায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং মৃত্যুর আগে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

এ ঘটনাগুলো ঘিরে অনলাইনে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। কেউ বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির আশঙ্কা করছেন, আবার কেউ বলছেন, গোপন গবেষণা বা অজানা প্রযুক্তি আড়াল করতে তথ্য গোপন করা হতে পারে। এমনকি ইউএফও-সংক্রান্ত গবেষণার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

পড়ুন:  পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: হরমুজ, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রাধান্যে

তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সুস্পষ্ট যোগসূত্রের প্রমাণ দিতে পারেনি। Federal Bureau of Investigation-এর সাবেক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো গভীর তদন্তের দাবি রাখে, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন।