এনসিটি ইজারা উদ্যোগের প্রতিবাদে ঢাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ, ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আয়োজকেরা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাকে ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ আখ্যা দেন।
গতকাল বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ‘সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী সমাজ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
আয়োজকেরা বলেন, ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ বলতে এমন প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীদের বোঝায়, যারা উন্নয়ন ঋণ, নীতি-পরামর্শ ও করপোরেট চুক্তির আড়ালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উচ্চঝুঁকির ঋণ, অসম চুক্তি ও কৌশলগত বিনিয়োগে আবদ্ধ করে ফেলে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের কৌশলগত সম্পদ, অর্থনৈতিক নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহিউদ্দিন রাহাত। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে সরকার এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত তৎপরতা দেখাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, “মনে হচ্ছে এই বন্দর দিতে না পারলে সরকারের মিশন-ভিশন ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে চার ব্যক্তি বিদেশি কোম্পানির কমিশনের বিনিময়ে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এ লক্ষ্যে বিভিন্নভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী বলেন, “এখানে শুধু বন্দর নয়, আমাদের পাহাড়ও জড়িত। পাহাড়ের ভূমি হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই।”
কর্মসূচি থেকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানানো হয় এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়।
