চলমান সংবাদ

লিবিয়ায় গুলিতে নিহত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি

লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

লিবিয়ায় দায়িত্বরত আল-জাজিরার প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা জানিয়েছেন, গত এক দশক ধরে সাইফ আল-ইসলাম জিনতান শহরেই অবস্থান করছিলেন। সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে কিংবা কোন পরিস্থিতিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। লিবিয়া সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

পাশ্চাত্যে শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি তাঁর বাবার শাসনামলে তুলনামূলক প্রগতিশীল মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০০ সালের শুরুর দিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০০৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বিশ্ব শাসন ব্যবস্থার সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা।

২০১১ সালে আরব বসন্তের প্রেক্ষাপটে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের আগে সাইফ আল-ইসলামকে লিবিয়ার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিদ্রোহীদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার পর সাইফ আল-ইসলাম জিনতানে বন্দী হন। পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি মুক্তি পান। তবে মুক্তির পরও তিনি জিনতানেই অবস্থান করছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ঘটনার পেছনের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্তের দাবি উঠেছে।