বিজন ভাবনা (৬৭): অন্য বাড়ির আগুন – বিজন সাহা

বিশ্ব, পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়ার পর এখন পশ্চিম ইউরোপ জ্বলছে। মাঝে অবশ্য খোদ আমেরিকা জ্বলেছে বিএলএম আন্দোলনে। এসব আন্দোলনের সার্বিক গতিবিধি দেখলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এর পেছনে রয়েছে একই হাত, একই মাস্টারমাইন্ড। হয় এরা নকলে পটু, একে অন্যের প্লট খুব ভালো ভাবে নকল করে অথবা একই অথবা পরস্পরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বেশ কয়েকটি সংস্থা পেছন থেকে কলকাঠি নাড়াচ্ছে। ধারণা করা যায় যে পেছন থেকে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে সোরস ফান্ড, ডীপ স্টেট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে কোথাও এদের সমর্থনে কোথাও বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দিয়েছে মৌলবাদী শক্তি, বিশেষ করে ইসলামী মৌলবাদীরা। আর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বামেরা এসব আন্দোলনে শরিক হয়েছে। এমনকি এতে করে যে ধর্মীয় মৌলবাদীরা ক্ষমতা দখল করবে সেটা জেনেও। বর্তমানে একই সাথে যেভাবে ইউরোপ আর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে করে এটাকে রাজনৈতিক এল নিনো বললে ভুল হবে না। প্রায় প্রতিটি দেশেই কী সরকার, কী বিরোধী দল, কী ছাত্র সংগঠন – সবাই একই চিত্রনাট্য অনুযায়ী চলছে। প্রতিটি দেশের ক্ষমতাসীনরা দেখছে কি কি ভুলের কারণে অন্য দেশে আন্দোলন দানা বাঁধছে আর তার পরেও সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিটি বিরোধী দল দেখছে অসাংবিধানিক ভাবে সরকার পতন হলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে, দেশে গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হচ্ছে, দেশ থেকে আইন শৃঙ্খলা বিদায় নিচ্ছে – অথচ সব জায়গায় বিরোধী দল প্রায় একই পথে চলছে। পরিস্থিতি এমন যেন কেউ সরকারী ও বিরোধী দল তো বটেই, এমনকি সাধারণ ছাত্র, বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি সবাইকে একই সাথে কিনে নিয়েছে আর সবাইকে দিয়ে যাত্রা পালার মত বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাম দলগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুন। সারা বিশ্ব যখন জেনে গেছে এর পেছনে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদের হাত, তারপরেও তারা নিজেদের ব্যর্থতাকে বিপ্লব বলে বুক চাপড়াচ্ছে। সমাজতন্ত্রী বা সাম্যবাদীরা বা বামপন্থীরা পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যেভাবেই হোক তাদের ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করবে সে বিষয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আদর্শ কি কোন ভূমিকাই পালন করবে না? পুঁজিবাদের সাথে সমাজতন্ত্রের সমস্যা মূলত অর্থনৈতিক। তারা উভয়েই ইহ জগতেই মানুষকে স্বর্গ সুখ না হলেও উন্নত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে চায়। পক্ষান্তরে মৌলবাদ ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে দিতে চায়, তারা সমাজকে নিয়ে যেতে চায় সামন্ত যুগে। তাও আবার অপেক্ষাকৃত উন্নত সামন্ত যুগে নয়, বর্বর সামন্ত যুগে। আর বর্বরতা যখন উন্নত প্রযুক্তি হাতে পায় তখন তারা আরও বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে। ফ্রান্স থেকে আন্দোলন ইতিমধ্যে বেলজিয়াম হয়ে ইতালি, আলবানিয়া ও অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স স্বীকার করেছে যে এই আন্দোলনের পেছনে বিদেশী শক্তির হাত নেই। আলবানিয়া পক্ষান্তরে বিদেশী শক্তির উপস্থিতির কথা বলছে। সার্বিয়ায় বিদেশী শক্তি ছাত্রদের উস্কানি দিচ্ছে বলে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা বলছে। সেখানকার ইউক্রেন দূতাবাস মূল ভূমিকা পালন করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেপথ্য সমর্থনে। আসলে ইউরোপের সেসব দেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বিরুদ্ধে কথা বলছে সেখানেই তারা হস্তক্ষেপ করছে। এটা দেখেছি রুমেনিয়ায়, মালদাভিয়ায়। কোন রকম বিরুদ্ধ মত আর সহ্য করতে চাইছে না তারা। এই ব্যাপারে তারা সোভিয়েত ইউনিয়নকে অনুসরণ করছে।

 

অনেক দিন আগে কে যেন বায়োলজিক্যাল উইপন নিয়ে প্রশ্ন করেছিল। আমি এ ব্যাপারে খুব স্কেপ্টিক। কারণ যেকোনো অস্ত্রই মানুষ তৈরি করুক না কেন, সে চায় তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কিন্তু প্রাণী মেশিন নয় যে তাকে সব সময় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে (অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মনে হয় ব্যতিক্রম), তাই অস্ত্র যদি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা না যায় সেটা যে একদিন নিজের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হবে না সেটা কে জানে। আর এই ভাবনা থেকেই বলেছিলাম যে যেহেতু এই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবেই যাবে, তাই কোন দায়িত্বশীল সরকার এই ধরণের অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকবে বলেই আশা করি। তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশ এই অস্ত্র পরীক্ষা করছে। অনেকের ধারণা এইডস, কোভিড-১৯ এসবই ল্যাবরেটরিতে জন্ম নেয়া বায়োলজিক্যাল উইপন, যা কোন কারণে লিক করেছে। আমেরিকা ইউক্রেন সহ বিভিন্ন দেশে শতাধিক ল্যাবরেটরি তৈরি করেছে এ নিয়ে গবেষণা করতে। এটা শুধু রাশিয়ার অভিযোগ নয়, আমেরিকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যেমন, ভিকি ন্যুল্যান্ড ও অন্যদের স্বীকারোক্তি। এসব ল্যাব এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজ করলেও উত্তর বা দক্ষিণ আমেরিকায় ছিল না। কারণ বায়োলজিক্যাল উইপন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় জেনে আমেরিকা রিস্ক নেয়নি। তবে ক্রমে ছোট হয়ে আসা পৃথিবীতে এটা আর নিরাপদ নয়। কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে যে একবার ল্যাবের বাইরে চলে গেলে ভাইরাস আর শত্রু মিত্র বাছাই করে না। তবে শুধুমাত্র রোগ জীবাণু, ভাইরাস, মৌমাছি এসবই যে বায়োলজিক্যাল উইপন নয়, মানুষও যে ভয়ঙ্কর রকম বায়োলজিক্যাল উইপন সেটা মনে হয় কেউ গুরুত্ব দিয়ে ভাবে না। দেশে দেশে মব, বিএলএম, আরব স্প্রিং ও কালার রেভ্যুলেশনে অংশগ্রহণকারী তৌহিদী জনতা, আল কায়েদা, ইসলামিক স্টেট এসব যেকোনো বায়োলজিক্যাল উইপনের চেয়ে কোন অংশে কম ভয়ঙ্কর নয়। সবচেয়ে বড় কথা এসবই এক সময় না এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাই ভিন দেশের খেলা একসময় যে নিজ দেশে ফিরে আসবে না তার কোন গ্যারান্টি কোথায়? তাছাড়া আজ যারা ইউরোপে মব করছে তাদের অনেকেই যে নিজ নিজ দেশে আন্দোলন করার জন্য পশ্চিমা বিশ্বের গোয়েন্দাদের হাতে তৈরি হয়নি সেটাই বা কে বলবে?

 

পৃথিবীতে বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে পরবর্তীতে পরাজয়ের গ্লানিতে কালিমালিপ্ত হবার উদাহরণ কম নয়। বিজয় মানুষকে অন্ধ করে, সে ভাবতে শুরু করে তার প্রতিটি পদক্ষেপ সঠিক। আগের বিজয় কষ্ট করে অর্জিত হলেও এখন সে ধরে নেয় সে যাই করুক না কেন তা তাকে বিজয়ী সে হবেই হবে, এটাই তার ডেসিটিনি। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে তেমন কোন শক্তি ছিল না। কিন্তু ঠান্ডা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে রাশিয়ার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইউরোপ নিজেকে বিশ্বের ভাগ্য বিধাতাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড় হিসেবে মনে করতে শুরু করে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো, যারা কখনোই বিশ্বের বা ইউরোপের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি, হঠাৎ করেই নিজেদের সেই ভূমিকায় আবিষ্কার করে। ভোটের বাজারে যেমন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর ভোট আর অজ পাড়াগাঁয়ে বসবাসকারী, যে কখনও নিজের গ্রামের বাইরে যায়নি আর যাকে কেউ চেনে না, জানে না, এমন একজনের ভোটের মূল্য সমান, এই সব ছোট ছোট দেশ তেমনি সব প্রশ্নে একই পরিমাণ অধিকার লাভ করায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কারণ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে যে ঐতিহাসিক ও আর্থ-সামাজিক ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন সেটা তাদের নেই শুধু মাত্র নিজেদের ক্ষুদ্রতার জন্য অন্যদের দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার অন্ধ ইচ্ছা ছাড়া। সেটাই ইউরোপকে বারবার ভুল পথে চালিত করেছে। প্রতিশোধ নেশায় মত্ত হয়ে তারা একের পর এক ইতিহাস বিকৃত করেছে আর শেষ পর্যন্ত এলিট শ্রেণীর এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলেছে যারা অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন, যারা শূন্যের উপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।

 

পাকিস্তানে জন্মের পর থেকেই ছিল আর বাংলাদেশে ইদানিং কালে ভারত বিরোধিতা প্রায় কাল্ট বা ধর্মে পরিণত হয়েছে। এখন দেশের বৈধ সব রাজনৈতিক দল, হোক সে বাম, ডান বা মধ্যপন্থী – পাল্লা দিয়ে ভারত বিরোধিতা করে।‌ আর তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে দেশের প্রায় দেড় কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর। একই ভাবে আমরা দেখি ইউরোপের দেশগুলোতে রুশ বিরোধিতা। বিশেষ করে এলিটদের মধ্যে তা ধর্মের রূপ নিয়েছে। কারণ কোন কিছুর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস বা অন্ধ ঘৃণা – সেটাই ধর্ম। বাংলাদেশের মানুষকে যেমন বোঝানো হয় যে তাদের সব সমস্যার মূলে রয়েছে ভারত তেমনি ইউরোপের সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয় যে তাদের সমস্ত কষ্টের মূল হল রাশিয়া। অথচ পাকিস্তান বা বাংলাদেশ নিজেরাই ভারত থেকে বেরিয়ে গেছিল যেমন ইউরোপ নিজে থেকেই রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সস্তা জ্বালানী থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছে। নিজেদের অযোগ্যতা, স্বজনপ্রীতি, দলের মধ্যে ও দেশে গণতন্ত্রের চর্চা না করা, ধর্মের দোহাই দিয়ে আধুনিক শিক্ষা থেকে নিজেদের দূরে রাখা যে সমস্যার মূল – সেটা এই অন্ধ ভারত বিরোধিতার ঘোলা জলে যেমন আড়াল করা হয়, তেমনি রুশ বিরোধিতার নামে ইউরোপে আড়াল করা হয় মাল্টি-কালচার, ইমিগ্রেশন পলিসি, ইউক্রেনের হাত দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে হাইব্রিড যুদ্ধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা। তবে এক্ষেত্রে আমার মনে হয় আবার তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে ভুল করেছে। উপনিবেশ আমলে তাদের আয়ের একটি বড় এমনকি প্রধান উৎস ছিল এশিয়া, আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। তৃতীয় বিশ্বের মানুষের রক্ত, ঘাম আর সম্পদে তাদের দেশের মানুষ ভালো থেকেছে। আর ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা সমাজতন্ত্র মোকাবেলা করতে তারা বাধ্য হয়েছে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, তাদের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করতে। উপনিবেশ আমলে যে ইমিগ্রেশন হত না তা নয়, তবে সেটা ছিল সীমিত আর যারা ইউরোপ আমেরিকা যেত তারা শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করতে নয়, যেত সেখানকার আধুনিক শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করতে। অবিভক্ত ভারত থেকেই প্রচুর লোক যেত সেখানে উচ্চ শিক্ষার জন্য আর তাদের বেশিরভাগ দেশে ফিরে আসত। বর্তমানে যারা এসব দেশে যায় তাদের বেশিরভাগ যায় অর্থনৈতিক কারণে। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হতে নয়, তারা যায় অর্থ উপার্জন করতে আর পারলে সেসব দেশে নিজের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে। তাই সেই সময়ের ইমিগ্রান্ট আর আজকের ইমিগ্রান্ট এক নয়। যখন থেকে পশ্চিমা বিশ্বে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, পরিবেশ আন্দোলন জোরদার হয়, তখন তারা চীন (মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে তার দ্বন্দ্ব সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে) ও অন্যান্য দেশে নিজেদের শিল্প স্থানান্তরিত করে। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ থেকে রেহাই পায় আর তৃতীয় বিশ্বের সস্তা শ্রম অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে তাদের পণ্য সরবরাহ করে। কিন্তু চীন ও অন্যান্য দেশ অর্থনৈতিক ভাবে তাদের ছাড়িয়ে যেতে শুরু করলে তারা সিদ্ধান্ত নেয় স্বল্প মুল্যের শ্রম নিজেদের দেশেই পেতে। হয়তো এসব দেশের ডেমোগ্রাফিক সমস্যা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। ফলে আগের কমবেশি শিক্ষিত বা শিক্ষা লাভে আগ্রহী মানুষের চেয়ে তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে পাইকারি হারে পশ্চিমা বিশ্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়। তাদের ধারণা ছিল এখানে এসে তারা পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করবে। কিন্তু এসব দেশের মানুষ যেখানে উপনিবেশ আমলে এশিয়া আফ্রিকার সংস্কৃতি (অনেক সময় সেটা মোটেও পশ্চাৎপদ ছিল না) গ্রহন করতে পারেনি, সেখানে কীভাবে নব্য ইমিগ্রান্টরা তাদের দেশের শিক্ষা সংস্কৃতি গ্রহণ করবে? তাছাড়া এসব মানুষ প্রায়ই এসেছে পশ্চিমা বিশ্বের সৃষ্ট অরাজকতা, যুদ্ধ এসবের শিকার হয়ে। তাই তাদের মধ্যে যদি প্রতিশোধ স্পৃহা থাকে তাতে কি অবাক হবার কিছু থাকবে? তাই বলা যায় অন্তত ইউরোপে আজ যে অরাজকতা সেটা তাদের নিজেদের তৈরি। নিজেদের ভুল রাজনীতির ফসল। বিরোধী মত দমনে ইউরোপে সোভিয়েত আদলে ব্যবস্থা নেবার কথা বলেছি। এটা অবশ্য মূলত পূর্ব ইউরোপে সীমাবদ্ধ। যাহোক সাংস্কৃতিক দিক থেকে এরা সোভিয়েত অভিজ্ঞতা অনুসরণ করতে পারত। বিপ্লবের পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথমে সমস্ত রিপাবলিকে একমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা করে। কারণ মানুষকে শিক্ষিত না করে সংস্কৃতিমনা করা খুব কঠিন। ইউরোপ যদি ইমিগ্রান্টদের জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করত, তাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করত, তাহলে হয়তো আজকের মত সমস্যার সম্মুখীন তাদের হতে হত না। তবে মূল কথা হল – বর্তমানে ইউরোপে যা ঘটছে সেজন্য তারা শুধু নিজেদেরই দায়ী করতে পারে। যতদিন তারা রাশিয়ার মধ্যে নিজেদের ব্যর্থতা খুঁজবে ততদিন তাদের মুক্তি আসবে না। দিন দিন মানুষের জীবনযাত্রার মান কমবে। নিজদের তৈরি অলীক রুশ আগ্রাসনে বিশ্বাস করে একদিন তারা সত্যি সত্যি নিজেদের জন্য  বিপদ ডেকে আনতে পারে গল্পের সেই রাখাল ছেলের মত।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো