জাহাজভাঙা শ্রমিক ও যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের ফলোআপ সেশন অনুষ্ঠিত

জাহাজভাঙা শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাজভাঙা শ্রমিক ও যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের ফলোআপ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদস্থ হোটেল সেন্ট মার্টিনের লুসাই হলে এ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাহাজভাঙা শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য কেন্দ্রের সমন্বয়ক ফজলুল কবির মিন্টু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, “জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা আজ চরম্ভাবে অবহেলিত। +কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, ঝুঁকি নিরূপণ এবং দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে যুব শ্রমিকদের মধ্যে দক্ষ ও দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভবিষ্যতে নিরাপদ, মানবিক ও টেকসই শিল্প গড়ে তুলতে তরুণ শ্রমিক নেতৃত্বকে সামনে থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এসডিজির অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও দেশের শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করেই জাহাজভাঙা শিল্পকে টেকসই শিল্পে পরিণত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য শ্রমিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ এবং শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেশনে বক্তারা বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করলেই হবে না; শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি মূল্যায়ন, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করাও জরুরি।

ফলোআপ সেশনে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন’ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন লুতফুন্নাহার সোনিয়া। ‘জাহাজভাঙা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি’ বিষয়ে আলোচনা করেন মোহাম্মদ মাসুদ খান।

বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহের আলোকে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সেশনে জাহাজভাঙা শ্রমিক ও যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের ১৮ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।