আবাসিক ভবনে হাসপাতাল-স্কুল, পার্কিং দখল করে দোকান: চট্টগ্রামে ৬ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে চউক

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন আবাসিক ভবনে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান স্থাপন এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা না থাকার চিত্র পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। নগরীর যানজট নিরসন এবং ভবনের অনুমোদিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ছয়টি প্রতিষ্ঠান আকস্মিক পরিদর্শন করেছে চউকের একটি প্রতিনিধি দল।

সোমবার চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদিত নকশা, ভবনের ব্যবহার এবং পার্কিং ব্যবস্থা যাচাই করা হয়।

পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—একুশে হাসপাতাল, বাস্কেট সুপার মার্কেট, প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সার্জিস্কোপ হাসপাতাল, মেডিকেয়ার হাসপাতাল ও পিস পার্ক হাসপাতাল।

পরিদর্শনকালে একুশে হাসপাতালে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি চউকের নজরে আসে। এর আগে অনুমোদিত নকশা উপস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ দেওয়া হলেও সোমবারের পরিদর্শনের সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি।

সরেজমিনে হাসপাতালটিতে নির্ধারিত কোনো পার্কিং ব্যবস্থাও পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনের খালি জায়গাকে রোগীদের যানবাহন রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে।

অন্যদিকে বাস্কেট সুপার মার্কেটে পার্কিং নিয়ে অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। ভবনের বেসমেন্টে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত জায়গায় মার্কেটটির আউটলেট স্থাপন করা হয়েছে। ফলে অনুমোদিত পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চউক।

প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও চউকের অনুমোদিত নকশা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সার্জিস্কোপ হাসপাতাল, পিস পার্ক হাসপাতাল ও মেডিকেয়ার হাসপাতালেও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানেও পর্যাপ্ত কিংবা অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে চউক সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মঙ্গলবারের মধ্যে অনুমোদিত নকশাসহ চউক কার্যালয়ে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পার্কিং ব্যবস্থার ঘাটতি দূর করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করতে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, নগরীকে যানজটমুক্ত রাখতে চউকের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হলেও সেবার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করে পরিচালিত হতে পারে না।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পার্কিং নিশ্চিত করা চউকের অন্যতম প্রধান শর্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি না হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চউক চেয়ারম্যান আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকায় পরিচালিত হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত নকশা, ভবনের ব্যবহার ও পার্কিং ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। পরিদর্শনে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চউক সূত্র বলছে, নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে আবাসিক ভবনের অননুমোদিত ব্যবহার এবং পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার। বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল ও মার্কেটের মতো জনসমাগমপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় সড়কের ওপর যানবাহন দাঁড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জনদুর্ভোগ।