শিল্প মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ -শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্স ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের প্রতিবাদ সমাবেশ

জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে একের পর এক প্রতিকারহীন শ্রমিক নিহত ও আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে দায়ীদের শাস্তি, ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬ সকালে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্স ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপি, শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি অ্যালায়েন্স এর জেষ্ঠ্য যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহউদ্দীন আহমেদ এবং সদস্য সচিব ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর যুগ্ম সমন্বয়ক এএএম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার বক্তব্যে জাহাজ ভাঙা শিল্পে অবহেলাজনিত কারণে ধারাবাহিকভাবে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত বন্ধের দাবি জানান। তিনি বলেন, ২৪-এর গণআন্দোলন সহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাই একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে এই শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান যেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি শ্রমিক হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করে মামলা দায়ের করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়। সমাবেশ শেষে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ জাহাজভাঙ্গা শিল্পসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবহেলাজনিত অকাতরে মৃত্যুকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়নের নামে ধারাবাহিকভাবে শ্রমিকদের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো দুর্ঘটনারই সঠিক বিচার বা মামলা না হওয়ার সংস্কৃতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, শিল্প মন্ত্রণালয়কে সরাসরি দায়-দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসাথে শিল্প ও শ্রমিক—উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ না করা পর্যন্ত এই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেম হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রুহুল আমিন ও ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম মোহন, শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সহ সভাপতি নার্গিস জাহান ও সাধারণ সম্পাদক নাসরিন আক্তার ডিনা, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের খাদিজা আক্তার, কর্মজীবী নারী’র আহমেদ রাজীব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ এর উপ পরিচালক আব্দুল মজিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকস্ এমপ্লয়ীজ ফেডারেশন, জাতীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, টিএন্ডটি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এবং ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সহ অ্যালায়েন্স ও ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।