যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হারানো পোশাকবাজারের বড় অংশ পেল না বাংলাদেশ
Fazlul Kabir আগস্ট ৭, ২০২৬![]()
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাকের বাজার হারিয়েছে চীন। তবে সেই হারানো বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি বাড়িয়ে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম।
সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমলেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে তুলনামূলকভাবে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৪০১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সময়ে চীন, ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস থেকেও আমদানি কমেছে। বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া তাদের রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের মতে, গত বছর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমতে শুরু করে। চীনের ক্রয়াদেশ দ্রুত কমলেও তার বড় অংশ চলে যাচ্ছে ভিয়েতনামে। কিছু অংশ পাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। বাংলাদেশ তুলনামূলক কম সুবিধা পাচ্ছে, কারণ চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশের বড় অংশই কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড পোশাকের, যেখানে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনও সীমিত।
নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, তুলাবিহীন পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের দক্ষতা তুলনামূলক কম। পাশাপাশি দীর্ঘ লিড টাইম এবং লজিস্টিকস–সংক্রান্ত দুর্বলতার কারণে ফাস্ট ফ্যাশনের বাজারেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথমার্ধে দেশটি ৫৭৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। অর্থাৎ এক বছরে চীনের রপ্তানি কমেছে ২১৬ কোটি ডলার।
চীনের হারানো বাজারের বড় অংশ পেয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনাম ৭৮৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ শতাংশ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ২৩৩ কোটি ডলার এবং কম্বোডিয়া ২১৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। দেশ দুটির প্রবৃদ্ধি যথাক্রমে ৩ ও ১২ শতাংশ।
তবে সামনে সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। স্প্যারো গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, নতুন শুল্ক কাঠামোর কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় আড়াই শতাংশ শুল্ক–সুবিধা পাচ্ছে। ইতিমধ্যে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে দুটি বড় ক্রয়াদেশ ভিয়েতনাম থেকে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। তাঁর আশা, আগামীতে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এমন সুযোগ পাবে।
তবে জ্বালানিসংকট নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমতে পারে এবং সম্ভাবনাময় বাজার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।