চলমান সংবাদ

সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সুপারিশ চূড়ান্ত, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

ঢাকা, ২২ জুলাই: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে এসব পরিবর্তনের সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সব আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনে তিন বাহিনীকে নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না এবং তারা পুলিশের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন ও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের উল্লেখ থাকলেও উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে এমন বিধান নেই। নতুন সুপারিশ অনুযায়ী সব স্থানীয় সরকার আইনে এ বিষয়ে সমতা আনা হবে।

ইসি আরও সুপারিশ করেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। বিদ্যমান আইনে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধা না থাকলেও এবার এটিকে প্রার্থিতার অযোগ্যতা হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদ ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সব স্তরের নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার বিধিনিষেধ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ ধরনের বিধান নেই।

কমিশন নীতিগতভাবে আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ঋণের জামিনদারও ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলে নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার বকেয়া বিল থাকলেও তা প্রার্থিতার অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করার সুযোগও থাকবে না।

পড়ুন:  স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকছে না: ইসি কমিশনার মাছউদ

এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে থাকা ব্যক্তি পদত্যাগ ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চার্জশিটভুক্ত ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।

বৈঠকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন অনলাইনে করা যাবে এবং এ জন্য নির্ধারিত সংশোধনী ফি দিতে হবে।

ইসি আরও জানিয়েছে, প্রতি ১৫ বছর পর এনআইডি নবায়নের বিধান কার্যকর করতে নতুন ফরম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ফরমে আবেদনকারীর পারিবারিক তথ্য বা ‘ফ্যামিলি ট্রি’ যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে তথ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যায়।

এ ছাড়া বর্তমানে ১৬ বছর বয়সীদের তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করা যায় কি না, সে বিষয়েও পর্যালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির চূড়ান্ত করা এসব সুপারিশ এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার অনুমোদন দিলে আইন সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভা ও পরে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করতে হবে।