Skip to content
  • https://www.facebook.com/
  • https://twitter.com/
  • https://t.me/
  • https://www.instagram.com/
  • https://youtube.com/
  • মূলপাতা
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • স্বাস্থ্য
  • চলমান সংবাদ
  • শিল্প সাহিত্য
  • ভিডিও
  • মতামত
  • মূলপাতা
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • স্বাস্থ্য
  • চলমান সংবাদ
  • শিল্প সাহিত্য
  • ভিডিও
  • মতামত
Subscribe
Close

Search

বিজন ভাবনা

বিজন ভাবনা (২৬):ভেনেজুয়েলা

-বিজন সাহা

By Fazlul Kabir
July 1, 2026 7 Min Read
Comments Off on বিজন ভাবনা (২৬):ভেনেজুয়েলা

-বিজন সাহা

আমেরিকা সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোনাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দী করে নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজির করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে নারকো-ট্র্যাফিক সহ বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ যে অজুহাত মাত্র সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই। ইরাক আক্রমণ করার সময়ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র রাখার অভিযোগ করা হয়েছিল। কী ইরাক, কী ভেনেজুয়েলা – সব ক্ষেত্রেই ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি ছিল তাদের বিশাল তেলের মজুদ। তবে আজকাল সত্যের বাজার মন্দা, সেটা সহজে কেউ খেতে চায় না। তাই মিথ্যাকে বিভিন্ন মোড়কে সত্য বানিয়ে বিক্রি করতে হয়। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটাই করেছেন। হুগো শ্যাভেজের সময় থেকেই ভেনেজুয়েলাকে শায়েস্তা করার অদম্য ইচ্ছা পোষণ করেছেন আমেরিকার সব প্রেসিডেন্ট, সব প্রশাসন। সেই খায়েশ আপাতত পূরণ হয়েছে। আর একই সাথে যারাই আমেরিকার শোষণ যন্ত্রের চলার পথে কাঁটা ছড়ায় তাদের মনে সাময়িক ভাবে হলেও ভয় ঢোকানো গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে মাত্র ঘন্টা খানেকের মধ্যে এই অভিযান সফল করা হয়েছে। এতে একই সাথে শতাধিক বিমান অংশ নিয়েছে, সাথে ছিল নৌবহর আর শত খানেক কিউবান ও ভেনেজুয়েলার মানুষের প্রাণ। সব মিলিয়ে অভিযান ছিল চোখ ধাঁধানো। ইরাক ও আফগানিস্তানে ব্যর্থ হবার পর এই আক্রমণ আমেরিকার সামরিক বাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে সাহায্য করবে। একই সাথে অন্যান্য দেশের নেতাদের ভাবতে বাধ্য করবে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে।
রাশিয়া, চীন সহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই এই আক্রমণের নিন্দা করেছে এবং ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভা আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে এই প্রতিক্রিয়া দেশ ভেদে ভিন্ন। ইউরোপের দেশগুলোর ভাষা ছিল নিয়ন্ত্রিত। যতটা না ভেনেজুয়েলার প্রতি সহানুভূতি, আমেরিকার এই আক্রমণ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের ভিত্তি কিছুটা হলেও নড়বড়ে করে দেবে – সে আশংকাই তাদের বেশি চিন্তিত করেছে। এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে বিরাট প্রভাব ফেলবে এবং যেকোনো ছোট ও দুর্বল দেশ নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিরাপদ অনুভব করবে। এই আক্রমণকে দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে অনেক দেশই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে ঠিক যেমনটা হত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার আগে। এক কথায় পিছিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর একটা সুযোগ ছিল যুদ্ধ বাজেট কমিয়ে সেটা স্বাস্থ্য, শিক্ষা এসব খাতে ব্যয় করার ও সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের। কিন্তু বৃহৎ পুঁজির সীমাহীন অর্থ ও ক্ষমতা লিপ্সা ও পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের অযোগ্যতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতা আজ পৃথিবীকে বসবাসের জন্য অনেক বেশি বিপদজনক করে তুলেছে।
রুশে একটা কথা আছে – অপ্রত্যাশিত ভাবে শীত চলে এলো। যদিও আগস্টের শেষ দিক থেকেই গুটি গুটি পায়ে শীত আসে তারপরেও যেন হঠাৎ করেই সবার মাথায় প্রথম বরফ ভেঙ্গে পড়ে। হুগো শ্যাভেজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমেরিকা ভেনেজুয়েলায় রেজিম চেঞ্জের পরিকল্পনা করছিল। মাদুরোর মাথার দাম পঞ্চাশ মিলিয়ন ডলার ধার্য করা হয়। এরপর মাচাদোর নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি ও বিগত কয়েক মাস ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে মার্কিন নৌবহরের সমাবেশ আসন্ন আক্রমণের আভাস দেয়। এরপরও অনেকেই ভেবেছিল ট্রাম্প হয়তো গর্জন করেই বিদায় নেবেন বর্ষন করবেন না। অবশ্য বিগত এক বছরে সোমালিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া ইত্যাদি দেশে ঝটিকা বিমান আক্রমণ থেকে বোঝা দরকার ছিল যে ভেনেজুয়েলার গলায় ফাঁসির রজ্জুতে টান পড়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ভেনেজুয়েলা আক্রমণের পরে অনেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নিধন কামনা করছে। সমস্যা হল সাম্রাজ্যবাদ একা নিপাত যাবে না, গেলে যাবে আমেরিকা নামক দেশটাকে সাথে নিয়ে। আমেরিকা শুধু তার সামরিক শক্তি বা তার রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, আমেরিকা মানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, শিক্ষা, সাহিত্য, সিনেমা, মিউজিক আর শত শত নতুন নতুন আইডিয়া। অপ্রিয় হলেও সত্য যে এসবের এক বিরাট অংশই তার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী রাজনীতি ও অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যথেষ্ঠ হলেও বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পৃক্ততা ততটা ছিল না যতটা আমেরিকার ছিল বা আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন যেখানে বিশ্ব রাজনীতিতে সুনামি ডেকে এনেছে আমেরিকার পতন সেক্ষেত্রে কেমন হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। তাই চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য শক্তি আমেরিকাকে কয়েকটি মেরুর একটি ধরেই ভবিষ্যত চিন্তা করে। বড় জাহাজ ডুবলে আশেপাশের নৌকাগুলো ডুবে যায়। আশা করি আমেরিকাকে বদ দোয়া দেবার আগে বিপ্লবী বন্ধুরা এই সহজ সত্যটা মাথায় রাখবে।

কেউ কেউ অবশ্য ভেনেজুয়েলার ঘটনায় সে দেশের শাসকদের দুর্নীতিকেই দোষী সাবস্ত্য করতে চাইছেন। বলছেন আসল সমস্যা সমাজের দুর্নীতি, ট্রাম্প উপলক্ষ্য মাত্র। বিষয়টি মনে হয় ততটা সহজ সরল নয়। এই ব্যাপারে অনেক দিন আগের এক ঘটনার কথা মনে পড়ল। সাইকেলের তালা কিনতে গিয়ে দোকানদারকে যখন জিজ্ঞেস করলাম
– তালাটি ভালো তো?
– দেখুন তালা সম্পদ রক্ষা করে না, রক্ষা করে মানুষ। তালা শুধু বলে সাইকেলটা অন্যের, এটায় তোমার অধিকার নেই। যে লোক আইনকে সন্মান করে সে এতেই সব বুঝে নেয়। যে করে না একটা কেন, অনেকগুলো তালাও সে ভেঙ্গে সাইকেল নিয়ে যায়। সমস্যা মানবিক।
এটা ঠিক যে বিভিন্ন দেশের শাসকদের দুঃশাসন অন্যদের সুযোগ করে দেয় সে দেশের ব্যাপারে নাক গলাতে। আবার অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এনজিওর মাধ্যমে বা অন্যান্য উপায়ে অনেক দেশকে বাধ্য করে রক্ষণশীল ও দুর্নীতিগ্রস্ত হতে। নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশে বিভিন্ন পণ্যের অভাব দেখা দেয়। দুর্নীতি শুরু হয় সাপ্লাই চেইনে সমস্যা দেখা দিলে। যা সহজ প্রাপ্য তার জন্য মানুষ বেশি অর্থ দেয় না, দুষ্প্রাপ্য হলে মানুষ যেভাবেই হোক সেটা পেতে চায়। এভাবেই তৈরি হয় দুর্নীতি করার সুযোগ। তাই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসলে দুর্নীতিকে উস্কে দেয়া হয়, তাতে আমলারা লাভবান হয়, জনগণ আরও বেশি করে আমলাদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আমলাদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। আমলাদের গুরুত্ব কমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা নয়, উল্টো সাপ্লাই বাড়ানো দরকার। তাতে ঐ দেশের শিল্পের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, সাধারণ মানুষের আমলা ও শাসক শ্রেণীর উপর নির্ভরতা কমে। তাই দুর্নীতির বাম্পার ফলনে উভয় পক্ষের দোষ আছে। স্বাধীনতা, স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির জন্য যে মূল্য দিতে হয় সেটা অনেকেই দিতে মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রস্তুত বা সক্ষম নয়। এমনকি সরকার যদি প্রস্তুত থাকেও অনেক সময় বিরোধী দল সেই সুযোগ গ্রহণ করে বিদেশী শক্তির হাতে দেশ তুলে দেয়। সেটা যেমন পলাশীর প্রান্তরে হয়েছে, এখনও হচ্ছে।
আমেরিকা যে বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তন করে সেটা নতুন করে বলার দরকার নেই। চিলির সালভাদর আলিয়েন্দে, বাংলাদেশের শেখ মুজিব সহ অসংখ্য নাম পাব সেই তালিকায়। তবে এসব করত নেপথ্যে থেকে, স্থানীয়দের বিভিন্ন ভাবে উত্তেজিত করে, অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য দিয়ে। অন্তত যতদিন পর্যন্ত ওয়ারশ জোট ছিল ততদিন এটাই ছিল রীতি। ওয়ারশ জোটের বিলুপ্তি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুগোস্লাভিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া কত দেশে আমেরিকা সরাসরি আক্রমণ করেছে। ট্রাম্পের এক বছরের শাসনামলে সোমালিয়া, ইয়েমেন, ইরান, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলা সহ মোট ছয়টি দেশ সরাসরি মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে। ওয়ারশ জোট বিলোপের পর ন্যাটোর বিলুপ্তি ঘোষণা ছিল সময়ের দাবি। আমেরিকা সেটা করেনি বিভিন্ন দেশের উপর নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তা প্রসারিত করেছে। আজ যে ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে তার পেছনে আছে এই ন্যাটো। ভেনেজুয়েলার ঘটনা বিশ্বকে একটাই শিক্ষা দিতে পারে। সামরিক আগ্রাসন বন্ধ করতে হলে শক্তিশালী সামরিক জোট গঠন করা দরকার। গরম যুদ্ধের চেয়ে ঠান্ডা যুদ্ধ ভালো। আমার মনে হয় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই এখন ব্রিকসকে সামরিক জোটের কথা ভাবতে হবে। অন্ততঃ রাশিয়া, চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া এসব দেশ মিলে কোন সামরিক জোট তৈরি করতে হবে। যত তাড়াতাড়ি এটা করা যাবে পৃথিবীর জন্য ততই মঙ্গল।
গায়ের জোরে নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থে কোন কাজ করা শুধু নিজের শক্তিই প্রদর্শন করে না, একই সাথে নিজের দুর্বল দিকটাও উন্মোচিত করে। শক্তি প্রয়োগ মানে যুক্তির অভাব, প্রচলিত আইনের আওতায় সমস্যা সমাধানে নিজের ব্যর্থতা। আবার এই শক্তি প্রয়োগ অন্যদেরও একটা বার্তা দেয় – চাইলেই অপেক্ষাকৃত দুর্বলের উপর শক্তি প্রয়োগ করা যায়। তার শক্তি প্রয়োগের পক্ষে যুক্তি কিন্তু আগেই তৈরি হয়ে গেছে। আর এভাবে চলতে থাকলে এক সময় সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা বিলোপ পাবে, পৃথিবীতে কায়েম হবে জঙ্গলের আইন – বাঘের সামনে কোন হরিণ আর নিরাপদ থাকবে না। তাই আমেরিকার এই আক্রমণ দিনের শেষে কতটুকু তার পক্ষে যাবে, কতটুকু বিপক্ষে – সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমার বিশ্বাস দুই যুগ আগে পশ্চিমা বিশ্ব কসোবাকে স্বীকৃতি না দিলে রাশিয়ার পক্ষে ক্রিমিয়ার দখল নেয়া ততটা সহজ হত না, কারণ সেক্ষেত্রে রাশিয়া আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে কোন দৃষ্টান্ত হাজির করতে পারত না।  আজকের এই আক্রমণ এক সময় আমেরিকার গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে।

পড়ুন:  বিজন ভাবনা (২৫): জন্মদিন <h3>-বিজন সাহা

অনেকেই এখন অপেক্ষা করছে রাশিয়া ও চীন এখন কি করে। তাদের করা না করার উপর ভিত্তি করে অনেকেই রাশিয়া ও চীনের শক্তি বা দুর্বলতা মাপার চেষ্টা করছে। রাশিয়া বা চীন খুব বেশি কিছু একটা করবে বলে মনে হয় না। এটা এদের সাথে আমেরিকা ও ন্যাটোর সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করবে যা পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নেবার সম্ভাবনা আছে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভেবেচিন্তে, তাড়াহুড়ো না করে। শোনা যাচ্ছে ভেনেজুয়েলায় নিজের স্বার্থ রক্ষায় চীন আদালতের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছে। আমেরিকা সবকিছুর পরেও আইন মেনে চলে যদিও আন্তর্জাতিক আইনকে সে থোড়াই কেয়ার করে। আদালতের ভয়ে পশ্চিমা বিশ্ব এখনও তাদের ব্যাংকে আঁটকে পড়া রাশিয়ার সম্পদ গলাধঃকরণ করছে না। চীনের পদক্ষেপ তাই আমেরিকার বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে। তবে শুধু আদালতের উপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। অন্যান্য উপায় ভেবে দেখতে হবে। যদি ভেনেজুয়েলায় গণ প্রতিরোধ গড়ে উঠে তাহলে তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে রাশিয়া ও চীনকে। এক্ষেত্রে ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ অন্যান্য দেশকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে এই ঘটনা যদি ব্রিকসকে  অর্থনৈতিক জোটের পাশাপাশি সামরিক জোটে পরিণত না করে তাহলে আমেরিকা তথা পশ্চিমা বিশ্ব যেকোনো দেশ আক্রমণ করার ব্ল্যাঙ্ক চেক পেয়ে যাবে। রাশিয়ায় বলে যদি শান্তি চাও তাহলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও। হ্যাঁ, শান্তি খুবই দুর্লভ বস্তু, যুদ্ধ ছাড়া তাকে অর্জন করা অসম্ভব।

আরেকটা প্রশ্ন অনেকেই মাথায় ঘুরছে। তা হল এই ঘটনা রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা। আমার ধারণা এখন আমেরিকা ইউক্রেন সমস্যা থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেবে। ইতিমধ্যে প্যারিসে ইউক্রেনের বন্ধুদের যে সামিট হয়ে গেল সেখানে উপস্থিত থাকলেও আমেরিকা কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। যদি ইউক্রেন তাদের প্রস্তাবে রাজি না হয় তাহলে এ নিয়ে আমেরিকা আর খুব বেশি মাথা ঘামাবে না। ইউরোপ প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছে ইউক্রেনকে যুদ্ধে রাখতে। এবার তারা দ্বিগুন উৎসাহে সেই চেষ্টা করবে। আমেরিকা ব্যস্ত থাকবে ভেনেজুয়েলা ও গ্রীনল্যান্ড নিয়ে। অন্যদিকে রাশিয়া চাইবে ধীরে ধীরে রুশ অধ্যুষিত সমস্ত এলাকার দখল  নিতে। যদি খারকভ থেকে শুরু করে ওডেসা পর্যন্ত পুরো দক্ষিণ পূর্ব বেল্ট রাশিয়া দখল করে তার প্রতি অন্তত এ দেশের মানুষের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলেই মনে হয়। যুদ্ধের মাঠে যেহেতু রুশ সেনারা অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে করে এ ধরণের ঘটনা প্রবাহে রুশ কর্তৃপক্ষের মোটেই অখুশি হবার কথা নয়। তাছাড়া ভেনেজুয়েলার ঘটনার পরে রাশিয়া প্রয়োজনে ইউক্রেনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর হামলা চালানোর নৈতিক অধিকার পাবে। সব মিলিয়ে আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি যেখানে আন্তর্জাতিক আইন নয়, “জোর যার মুল্লুক তার” হবে নতুন যুগের স্লোগান।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো

ShareTweetSubscribe

Tags:

bv25bv26
Author

Fazlul Kabir

Follow Me
Other Articles
Previous

সীতাকুণ্ডে জাহাজ বীচিংকালে দুর্ঘটনায় ২ শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নফোরামের স্মারকলিপি

Next

ঘন কুয়াশায় জাহাজ বীচিং : শিপব্রেকিং শিল্পে বিপদের নতুন সংকেত <h3>-ফজলুল কবির মিন্টু

শেষ খবর

  • ফেরদৌস স্টিলে ৯ শ্রমিক নিহত: নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ ফোরামের
  • তারেক রহমানের ভারত সফর: ২০-২১ আগস্টের বদলে ২২-২৩ আগস্ট ভাবছে ঢাকা
  • ভাটিয়ারীতে স্ক্র্যাপ জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ১০-এর বেশি
  • মির্জা ফখরুলই হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি
  • বিজন ভাবনা (৫৭): শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন – বিজন সাহা

বিভাগ সমূহ

  • অন্যান্য
  • চলমান সংবাদ
  • বিজন ভাবনা
  • মতামত
  • শিল্প সাহিত্য
  • স্বাস্থ্য

আর্কাইভ

July 2026
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  
« Oct   Aug »

উপদেষ্টা মণ্ডলী

সুভাষ দে
বালাগাত উল্লাহ্

সম্পাদকঃ

উৎপল দত্ত

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোহাম্মদ আতিক, নুপুর ধর
ফজলুল কবির মিন্টু, শওকত আলী
প্রকাশ ঘোষ, শিমুল দত্ত
রবিন গুহ, কাওসার পারভীন,
ড. উদিতি দাশ সোমা

ঠিকানাঃ

৫০৮ বানু বিল্ডিং, দামপাড়া মসজিদ লেন, চট্টগ্রাম

Copyright 2026 — . All rights reserved. Blogsy WordPress Theme