এক মাসে পাঁচ দফা ভূমিকম্পে কাঁপছে চট্টগ্রাম, বাড়ছে আতঙ্ক
চলতি ফেব্রুয়ারিতে একের পর এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সর্বশেষ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার মৃদু কম্পন, ৩ ফেব্রুয়ারি ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক শক্তিশালী কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা।
তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও অতীতের অভিজ্ঞতা নগরবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ১৯৯৭ সালে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে পাঁচতলা ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালে ৬ দশমিক ৯৯ মাত্রার কম্পনে একাধিক ভবন হেলে পড়ে। সর্বশেষ ২৫ ফেব্রুয়ারির কম্পনে বাদুরতলা এলাকায় একটি ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় চট্টগ্রাম ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অঞ্চলটি সক্রিয় টেকটোনিক জোন হিসেবে পরিচিত।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগরে ৩ লাখ ৮২ হাজারের বেশি ভবন রয়েছে। পরিকল্পনাবিদদের আশঙ্কা, বড় ভূমিকম্প হলে প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও রেট্রোফিটিংসহ দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।

