চলমান সংবাদ

এনসিটি চুক্তি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ; নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সইয়ে সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার পথ সুগম করে দেওয়া হাইকোর্টের একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল গ্রহণ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

আজ (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চেম্বার বিচারপতি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। শুনানিকালে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রায়ের ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) চাওয়া হলে আদালত বলেন, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার চুক্তি সই করতে পারবে না।

আদালতে সরকারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আনীক আর হক। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।

ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, একক বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে রোববার দায়ের করা আপিলটি আজ শুনানির জন্য ওঠে। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি আপিল গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতির গঠিত পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হলে আদালত স্পষ্ট করেন যে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার চুক্তি স্বাক্ষরের দিকে অগ্রসর হতে পারবে না।

এদিকে এনসিটি ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীদের ডাকা কর্মবিরতি আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি প্রথম তিন দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পালন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি বাড়ানো হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

গত বছর বাংলাদেশ ইয়ুথ ইকোনমিস্টস ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটরের মধ্যে চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন।

গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নাজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি ফাতেমা নাজীব পিপিপি আইন ২০১৫ এবং ২০১৭ সালের সরকার-টু-সরকার নীতিমালা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। অপরদিকে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চে পাঠানো হয়। গত ২৯ জানুয়ারি একক বেঞ্চ রুল খারিজ করে দেন, ফলে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার আইনগত বাধা দূর হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান।

তবে মঙ্গলবার আপিল গ্রহণের পর বিষয়টি আবারও বিচারাধীন (সাব জুডিস) হয়ে পড়েছে। ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি চুক্তি স্বাক্ষরে আইনগত বাধা তৈরি হয়েছে।