চলমান সংবাদ

প্রচার শুরুর আগেই বিধি ভঙ্গ: ২৭ জেলায় ৭৩ প্রার্থীকে শোকজ, জরিমানা কয়েকজনের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি থেকে। কিন্তু তার আগেই সারা দেশে অনেক প্রার্থী আচরণবিধি ভেঙে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার করলেও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ প্রায় সব দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেই বিধি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে কোনো ধরনের প্রচার চালানো যাবে না। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরপরই অনেক প্রার্থী পোস্টার লাগানো, শোভাযাত্রা, গাড়িবহর নিয়ে চলাচল, অনলাইন প্রচার ও সরাসরি ভোট চাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

এ পর্যন্ত  প্রাপ্ত ৩৯ জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৩ জন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির ৩৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১৮ জন, এনসিপির ৪ জন, ইসলামী আন্দোলনের ৩ জন, জাতীয় পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুজন করে, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফতে মজলিস, এবি পার্টি ও লেবার পার্টির একজন করে এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।

এই শোকজ নোটিশগুলোর মধ্যে ৪৪টির শুনানি বা নিষ্পত্তি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের সতর্ক করে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। খুব কম ক্ষেত্রেই কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ বিধি ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। কোনো রাজনৈতিক দল বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতাও আছে নির্বাচন কমিশনের।

বিভিন্ন জেলার চিত্র

রাজশাহীর ছয়টি আসনে নয়জন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের চারজন করে এবং এবি পার্টি ও লেবার পার্টির একজন করে রয়েছেন। আটটির নিষ্পত্তি হয়েছে, সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে তফসিল ঘোষণার পর প্রথম জরিমানা হয় চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে। কয়েক শ গাড়ির শোভাযাত্রা করায় তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই জেলায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বিএনপির এক প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রার্থীকে শোকজ করা হয়।

প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোট চাওয়ায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের মো. আনোয়ার ছিদ্দিককেও শোকজ করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে বিএনপির দুজন, জামায়াত, এনসিপি, গণ অধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির একজন করে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। পোস্টার লাগানো, ভোট চাওয়া ও প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি—১০ জন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে, তবে কাউকে সাজা দেওয়া হয়নি।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে সতর্ক করা হচ্ছে। মাত্রা বেশি হলে শোকজ, এরপরও না মানলে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

কিছু জায়গায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।
মাদারীপুরে তিন ঘটনায় তিন প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ১০ হাজার টাকা, পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াতের এক কর্মীকে ১ হাজার টাকা, লালমনিরহাট-১ আসনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ২০ হাজার টাকা, ঝিনাইদহ-৪ আসনে এক কর্মীকে ২ হাজার টাকা এবং ফেনীর তিনটি আসনে ১২ প্রার্থী ও তাঁদের নেতাদের মোট ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আসনভিত্তিক অনুসন্ধান কমিটি কাজ করছে। তবে প্রচার শুরুর আগেই এত বেশি বিধি ভঙ্গের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।