বিজয় দিবসে সিপিবির জাতীয় পতাকা মিছিল, স্বাধীনতা রক্ষার শপথ

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শপথবাক্য পাঠ ও জাতীয় পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট মোড় থেকে মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সমবেত হন সিপিবি নেতাকর্মীরা। সেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সমবেতদের শপথবাক্য পাঠ করান রণাঙ্গনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম। এসময় সমবেত সবাই ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রেখে একাত্তরের পরাজিত শক্তির আস্ফালন রুখে দেওয়ার শপথ নেন।
এরপর নগরীর সিনেমা প্যালেস মোড় থেকে সিপিবি এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহের উদ্যোগে বের হয় জাতীয় পতাকা মিছিল। গেরিলা যোদ্ধা মোহাম্মদ শাহআলম, চট্টগ্রাম জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সহ সাধারণ সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া এতে নেতৃত্ব দেন। মিছিলে সিপিবি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী, খেলাঘর, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) সহ আরও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সিনেমা প্যালেস মোড় থেকে লালদিঘীর পাড়, আন্দরকিল্লা, মোমিন রোড হয়ে মিছিল চেরাগি পাহাড় মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
চেরাগি পাহাড় মোড়ে জেলা সিপিবির সভাপতি অশোক সাহার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ শাহআলম। তিনি বলেন, একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাদের পরাজিত করেছিলাম, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের অপশাসন আর গণতন্ত্রহীনতার সুযোগে তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। পরাজিত শক্তি এখন ক্ষমতার মসনদে বসতে চায় আর তাদের মদদ দিচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। আমরা ওয়াশিংটন বুঝি না, দিল্লি বুঝি না, পিণ্ডি বুঝি না, আমরা বুঝি বাংলাদেশ। এই দেশকে নিয়ে উগ্রবাদীদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শক্তি নানা চক্রান্তের খেলা খেলছে। তারা এদেশকে যুদ্ধক্ষেত্র বানাতে চায়। আমরা এই চক্রান্ত সফল হতে দিতে পারি না। এর থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় অবিলম্বে নির্বাচন, নির্বাচন এবং নির্বাচন। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
