সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে অর্ধবার্ষিকী দুর্ঘটনা রিপোর্ট উপস্থাপন -৩২ দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ৩৮ জন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা শিল্পে চলতি বছরের দ্বিতীয় অর্ধবার্ষিতে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলোর একটি বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-ডিটিডিএ প্রকল্পের অর্ধবার্ষিকী দুর্ঘটনা রিপোর্টে। আজ দুপুর ২টায় সীতাকুণ্ডের ইপসা এইচআরডিসিতে স্থানীয় অংশীজনদের সামনে এ রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্ধবার্ষিকে মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় ৪১ জন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় ৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ১৮ জন এবং হালকা আহত হয়েছেন ২১ জন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারী লোহার আঘাতে ১৩টি, আগুন/বিস্ফোরণ/দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১০টি, যন্ত্রপাতি (ক্রেন, ম্যাগনেট, ট্রাক) এর আঘাত সংক্রান্ত ৬টি এবং উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আহতের ধরন অনুযায়ী, ১১ জন শ্রমিকের হাত বা আঙুল কাটা বা থেঁতলানো হয়েছে, ১৩ জনের পা বা পায়ের হাড় ভেঙেছে বা দগ্ধ হয়েছেন, ১০ জন মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং ৪ জন শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। নিহত ৩ জন ছাড়াও গুরুতর আহত ১৭ জন এবং হালকা আহত ১৪ জন শ্রমিকের তথ্য রিপোর্টে উঠে এসেছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশ ঘটেছে দিনে এবং ২৫ শতাংশ রাতে। তবে ৩টি মৃত্যুর মধ্যে ২টি ঘটেছে রাতে। নিহত বাবু ও আজীম উদ্দীনের মৃত্যু ঘটে রাত ২টা ও ৩টার দিকে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, দিনে কাজের চাপ বেশি থাকায় দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি হলেও রাতে তদারকি ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও তথ্য উপস্থাপন করেন বিলস-ডিটিডিএ প্রকল্পের সেন্টার কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, বিএমএফ-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. আলী, বিএমএসএফ-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. ইদ্রিস এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মানিক মণ্ডলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি জনাব ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হচ্ছে জাহাজভাঙা শিল্প সেক্টর। এই সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকেরা নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। তিনি এই ব্যাপারে মালিকপক্ষের আন্তরিক উদ্যোগ থাকতে হবে মত প্রকাশ করেন। তিনি জাহাজভাঙা শ্রমিকদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং শ্রমিক নিরাপত্তা বিধান ও জীবনমান উন্নয়নে তার দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে জানান।
বক্তারা জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার, কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে রাতের সময় জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা উন্নত করার দাবি জানান।
এতে সরকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তজাম্মল হসেন, উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা লুতফুন্নেছা বেগম, সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন সৌমিত্র চক্রবর্তী, এম এ কাইয়ুম চৌধুরী, ইমাম হোসেন স্বপন, শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে পক্ষে বক্তব্য দেন দিদারুল আলম চৌধুরী, মোঃ আলী, মোঃইদ্রিছ, মানিক মণ্ডল।
