অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে মনোনিবেশ করা -ফজলুল কবির মিন্টু

সংগঠক, টিইউসি, কেন্দ্রীয় কমিটি
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে। ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, এরই মধ্যে এক নতুন রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করেছে। অতীতে আমরা দেখেছি ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন হয়েছিল, যার মেয়াদকাল ছিল ৯০ দিন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা, যা তারা যথাযথভাবে সম্পাদন করেছিল। তবে ২০০৬ সালের ১/১১ এর সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিছু সংস্কার গ্রহণের চেষ্টা করলেও অধিক সফল হতে পারেনি, এবং শেষে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেয়।
বর্তমানে সরকার দুটি বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে: ১) সংস্কার কর্মসূচী এবং ২) সাবেক সৈরাচারের বিচার। এই দুটি কাজ দীর্ঘ মেয়াদী এবং চলমান প্রক্রিয়া, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার যদি শুধু এসব বিষয়কে প্রাধান্য দেয়, তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বিশেষ করে, বর্তমান সরকারের কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেমন ৭১ এর ইতিহাস মুছে ফেলা এবং ২৪কে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা। এসব বিষয় শুধুমাত্র দেশের রাজনৈতিক সংকটকেই গভীর করবে।
এছাড়া, সংস্কারের নামে যে পরিবর্তনগুলো আসছে, তা আদতে মৌলিক বিষয় নয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি দেশের মৌলিক বিষয় বা রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে না। বিশেষ করে, আমাদের মনে রাখতে হবে, যে সব সংস্কারের কথা এখন উঠছে, তা অতীতে আন্দোলনের এজেন্ডায় ছিল না। বরং, দেশে বিদেশে টাকা পাচার, দুর্নীতি, প্রশাসন ও পুলিশের দলীয়করণ, এবং জনগণের ভোটাধিকার হননের বিরুদ্ধে সশক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান ছিল।
তাহলে, বর্তমান সরকারের কাজ হওয়া উচিত দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রশাসন ও পুলিশের দলীয়করণ রোধ, এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া, বিচার ব্যবস্থা ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সংস্কারও প্রয়োজন। যদি এই সব ক্ষেত্রে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তাহলে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে। তবে, যদি সরকার তার মূল দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত হয়, তাহলে দেশ বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।
সুতরাং, দেশের ভবিষ্যতের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং জনগণের ক্ষমতার হাতে ফিরে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করা।
(লেখকঃ সংগঠক, টিইউসি, কেন্দ্রীয় কমিটি)
