দেড় বছর পর ক্ষত-বিক্ষত শরীরে বাড়ি ফিরল শিশু গৃহকর্মী

ভালো ভবিষ্যতের আশায় প্রায় দেড় বছর আগে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল সাড়ে নয় বছর বয়সী তানিয়াকে। দিনমজুর বাবার সেই আশা এখন পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরেছে শিশুটি।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ি গ্রামের তানিয়াকে প্রথমে ফেনীতে এবং পরে ঢাকার মিরপুরের একটি বাসায় পাঠানো হয়। তানিয়ার অভিযোগ, সেখানে তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং দিনের বেশির ভাগ সময় টয়লেটে আটকে রাখার অভিযোগও করেছে সে।

সম্প্রতি মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বাবা সেখানে গিয়ে শুক্রবার রাতে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়িতে ফেরেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ‘ভালো ভবিষ্যতের আশায় মেয়েকে দূরে পাঠিয়েছিলাম। এখন শুধু চাই, আমার মেয়েটা বেঁচে থাকুক এবং সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরুক।’

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। খাগড়াছড়ির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সৃজনী ত্রিপুরা বলেছেন, শিশুটি আইন অনুযায়ী সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী এবং গৃহকর্মী হিসেবেও তার সুরক্ষার বিধান রয়েছে।