চলমান সংবাদ

করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ

ঢাকা, ১২ জুন: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল। মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে প্রায় ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে নতুন এই সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় জানান, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এ সীমা ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করমুক্ত আয়ের সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী পাঁচ বছরের একটি প্রগতিশীল করকাঠামোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে করদাতারা মধ্যমেয়াদে তাদের করের হার সম্পর্কে পূর্বানুমান করতে পারবেন, এমন একটি স্থিতিশীল কাঠামো গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ

প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনে সারা বছর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে কর ছাড় এবং দেরিতে জমা দিলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা—যেটি কম—সেই পরিমাণ কর ছাড় পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রিটার্ন দাখিল করলে কোনো কর ছাড় বা জরিমানা থাকবে না। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি—অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি—অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে।

সরকারের মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা হবে এবং কর প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।