চলমান সংবাদ

তিন শিশুকে বাঁচাতে ঝাঁপ, দুইজন ফিরল জীবনে; মুনতাহিনাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ দিলেন মফিজ

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে যাওয়া তিন শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন এক মানবিক মৎস্য খামার মালিক। মৃত্যুর মুখ থেকে দুই শিশুকে ফিরিয়ে আনলেও শেষ পর্যন্ত আড়াই বছরের শিশু মুনতাহিনাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান মফিজ (৪৫)। একই ঘটনায় প্রাণ যায় শিশু মুনতাহিনারও।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ডলু নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে একটি মৎস্য খামারের পুকুরে ভাসমান ছোট্ট নৌকায় খেলছিল তিন শিশু। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত নৌকাটি উল্টে গেলে শিশুরা পানিতে পড়ে যায় এবং ডুবে যেতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন খামারের মালিক মফিজ।

কোনো কিছু না ভেবেই তিনি পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে একে একে দুই শিশুকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। তবে তখনও নিখোঁজ ছিল আড়াই বছরের শিশু মুনতাহিনা। তাকে উদ্ধারের জন্য আবারও পানিতে নামেন মফিজ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত হলেও তিনি আর ওপরে উঠতে পারেননি।

পরে স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে মফিজের নিথর দেহ উদ্ধার করেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয় ফটিকছড়ি পৌরসভার কে.এম. টেক এলাকার ব্যবসায়ী আজাদের কন্যা মুনতাহিনার মরদেহ।

ঘটনার খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের সঙ্গে কোনো ডুবুরি না থাকায় উদ্ধারকাজে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি না থাকায় মূল্যবান দুটি প্রাণ হারাতে হয়েছে।

এদিকে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেওয়া মফিজের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তাকে একজন সাহসী ও মানবিক মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। অপরদিকে, আড়াই বছরের নিষ্পাপ শিশু মুনতাহিনার অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্যের সন্তানের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করা মফিজের এই আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর ছোট্ট মুনতাহিনার অকাল মৃত্যু মনে করিয়ে দেবে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির কথা।