চলমান সংবাদ

সাইপ্রাসে এস আলমের সম্পত্তি জব্দ, ৮০০ কোটি ইউরো পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক তদন্ত

এস আলম (ফাইল ছবি)

ব্যাংক জালিয়াতি ও প্রায় ৮০০ কোটি ইউরো বিদেশে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। চলমান আন্তর্জাতিক ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এই আদেশ জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সাইপ্রাসের প্রভাবশালী গণমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তির আওতায় ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধের ভিত্তিতে গত ১৯ মে সাইপ্রাসের অর্থপাচারবিরোধী ইউনিট (মোকাস)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। জব্দ হওয়া সম্পত্তিটি সাইপ্রাসের পারেক্লিসিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দুইতলা বাড়ি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের বিতর্কিত ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন সাইফুল আলম। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন।

সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ভুয়া কোম্পানি ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতারণামূলক ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্থপাচার।

এদিকে, সাইপ্রাসে সম্পত্তি জব্দের আদেশের একদিন পর বাংলাদেশেও বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেয়েছে এস আলম গ্রুপ। ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮০ কোটি টাকার বেশি) ঋণ নিয়ে ১৩৪টি বাস না কিনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইফুল আলমসহ তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি শুধু একটি মামলায় সীমাবদ্ধ নয়। সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে, যার বড় অংশ পরে খেলাপি হয়ে যায়। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এসব ঋণের অর্থ জটিল আন্তর্জাতিক করপোরেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই চক্রটি পরিকল্পিত উপায়ে দেশ থেকে ৮ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ অর্থপাচার তদন্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের সন্ধান এবং পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।