চলমান সংবাদ

জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জাতীয় দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সংগঠনের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ হোটেল এশিয়ান এস আর এ-তে একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। “Worksite Mapping and Organising” শীর্ষক এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুল এবং সঞ্চালনা করেন আমিরুল হক আমিন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত। এছাড়া অনলাইনে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ইউনি গ্লোবাল ফেডারেশনের ডিরেক্টর Mathias Bolton, ইউনি এপ্রো (এশিয়া প্যাসিফিক) এর ডিরেক্টর (Commerce) Ms Alice Chang, সুইডেনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন টু ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি অরুনদুতি রানী, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী এবং জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ফয়েজ আহাম্মদ।

প্রধান অতিথি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, দেশের দোকান ও বাণিজ্যিক খাতে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া এবং আইন সম্পর্কে সচেতন হওয়াই তাদের অধিকার আদায়ের প্রধান শক্তি। শ্রম আইন বাস্তবায়নে মালিকপক্ষ ও প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি দোকান কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি তপন দত্ত বলেন, শ্রম আইন কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না, এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “দোকান কর্মচারীরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তাদের কাজের সময়, ছুটি ও মজুরি কাঠামো এখনও সুশৃঙ্খল নয়। নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন এবং নিয়মিত তদারকি ব্যবস্থা চালু করা সময়ের দাবি।” তিনি সংগঠনের ১৫ দফা দাবিকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা বাস্তবায়নে সম্মিলিত আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় টিইউসি কেন্দ্রীয় সংগঠক ও বিলস-এর কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু সংগঠনের ১৫ দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ধারা ৫ অনুসারে কোনো শ্রমিককে নিয়োগপত্র ছাড়া নিয়োগ দেওয়া আইনসম্মত নয় এবং প্রত্যেক শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক। ধারা ১০৩ অনুযায়ী দোকান ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে দেড় দিন সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে। ধারা ১০৮ অনুসারে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত কাজ করলে শ্রমিক দ্বিগুণ হারে ওভারটাইম ভাতা পাওয়ার অধিকারী। একইভাবে ধারা ১৩৮ অনুযায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। সংগঠন থেকে মাসিক সর্বনিম্ন ২০,০০০ টাকা মজুরি নির্ধারণ, বছরে দুইটি উৎসব বোনাস প্রদান এবং চাকুরি অবসানে শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট বা ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শ্রম আইন যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ঘোষিত দাবিসমূহ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তারা জোর দাবি জানান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

কর্মশালায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন দোকান কর্মচারী ইউনিয়নের ৪০ জন শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।