আগামীকাল বন্দর অবরোধ -শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালিত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুড়িং কন্টেনার টার্মিনাল ইজারা দেয়ার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ পালন করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।
আজ সকাল ১১টায় আগ্রাবাদ বাদামতলের আক্তারুজ্জামান সেন্টার চত্বরে আয়োজিত কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি উপলক্ষে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা এস কে বারী খোকন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি সোহাগ হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক নেতা নূর হোসেন ও মো. হোসেন, উপকূলীয় মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সমীরণ দাশ। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ রাজা মিয়া।
সমাবেশ থেকে আগামীকাল সকাল ১১টা থেকে সিমেন্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দর অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়।
নেতারা বলেন, দীর্ঘ সাত মাস ধরে ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে কেন এনসিটি ইজারা দেওয়া যাবে না—সে বিষয়ে বারবার সুস্পষ্টভাবে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছে না। বাধ্য হয়েই বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মবিরতি ও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার দমন-পীড়ন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্দোলন নস্যাৎ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বন্দর কর্তৃপক্ষ স্ট্যান্ড রিলিজের মাধ্যমে ১৬ জন শ্রমিককে অন্যত্র বদলি করেছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। তারা সংঘাতের পথ পরিহার করে অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা দেওয়ার চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে টানা তিন দিন সফলভাবে বন্দরে কর্মবিরতি পালন করায় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের সকল শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
