চলমান সংবাদ

এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগেও বড় পরিবর্তন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। এসব পদে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ)। এ–সংক্রান্ত একটি পরিপত্র সম্প্রতি জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর—এই তিন অধিদপ্তরকে প্রতিবছর অন্তত একবার অথবা সরকার নির্ধারিত সময়ে শূন্য পদের চাহিদা এনটিআরসিএর কাছে পাঠাতে হবে। সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এই চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে।

এতদিন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর অধীন পরীক্ষা ও সুপারিশের মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হয়ে আসছিল পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। এসব নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হলো।

পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে প্রার্থীদের লিখিত, বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। লিখিত ও বাছাই পরীক্ষায় মোট ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে মোট নম্বরের ন্যূনতম ৪০ শতাংশ পেতে হবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫-এর ধারা ৮(ট)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিয়োগ–সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএকে দেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট পদে এই পদ্ধতি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে কর্মচারী নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। এই কমিটিতে পরিচালনা পর্ষদের কেউ অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অভিযোগ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।