চলমান সংবাদ

দলের পদ গেলেও মানুষ ছাড়েনি আমাকে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, দলের পদ চলে গেলেও এলাকার মানুষ তাঁকে ছেড়ে যায়নি।

সোমবার বিকেলে সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাখাইতি গ্রামে এক উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার পর অনেকেই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন সংরক্ষিত আসন বা উচ্চকক্ষে যাওয়ার কথা ভাবতে। তিনি জানান, দল যদি ক্ষমতায় আসত, তাহলে তিনি অনেক সুবিধা পেতে পারতেন—এমন কথাও অনেকে বলেছেন। কিন্তু তিনি এসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, “এলাকার মানুষের কষ্ট, পরিশ্রম, তাঁদের অর্থ ব্যয়, ভালোবাসা ও আমার প্রতি তাঁদের বিশ্বাস আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে। আমি সেই মানুষদের ছেড়ে কোথাও যেতে পারি না।”

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “দল নেই বলে আমি আমার মানুষদের ফেলে চলে যাব—আমি তা করব না। এই কারণেই দলে আমার পদ গেছে। পদ গেছে ঠিক আছে, কিন্তু আমার মানুষ তো আছে। দল যদি জোটকেও দেয়, আমার মানুষের ভালোবাসা আমাকে ঘিরে রাখছে।”

তিনি আরও বলেন, “আপনারা যতক্ষণ আমার পাশে আছেন, পৃথিবীর কোনো শক্তি ইনশা আল্লাহ আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারবে না। আমার লক্ষ্য হলো অবহেলিত সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা।”

নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আমার বাবা ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। আমার বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। আমি বিজয়ী হয়ে তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই।”

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।