চবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার, উত্তপ্ত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়
চবি প্রতিনিধি | রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫ | রাত ৮:০৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। ৫ আগস্ট নিষেধাজ্ঞার পর এই প্রথম এমন কর্মকাণ্ড চোখে পড়ল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
রবিবার ভোররাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এবং আলাওল হলের মূল ফটকে দুটি ব্যানার টাঙিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে শিক্ষার্থীরা ব্যানারগুলো দেখতে পেয়ে দ্রুত সরিয়ে ফেলেন।
প্রথম ব্যানারে ইংরেজিতে লেখা ছিল:
“Stop weaponizing the illegal ICT Act based on the anarchy of the people. Stop Sheikh Hasina’s farcical trial – Bangladesh Chhatra League.”
ব্যানারটির এক পাশে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ব্যবহার করা হয়।
অন্য ব্যানারে লেখা ছিল:
“সেন্টমার্টিন ও চট্টগ্রাম বিদেশীদের হাতে দিব না। জাগো বাঙালি জাগো, মাতৃভূমি রক্ষা করো। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে।”
এ ব্যানারে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ছবি দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ
ঘটনাটি জানাজানি হতেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন।
কলা অনুষদের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন,
“নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন ব্যানার টাঙানো ভয়াবহ বার্তা দেয়। এটি ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় কিছু প্রভাবশালী ছাত্রলীগার এখনো সক্রিয়।”
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এখন জরুরি।
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি ফেসবুকে লিখেছেন,
“রাতের আঁধারে শহিদ তরুয়া ও শহিদ ফরহাদের রক্তসিক্ত ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানার টাঙানো দুঃসাহসিকতা। ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান অভিযোগ করেন,
“প্রশাসনে থাকা সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী এবং কিছু সক্রিয় কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানালেও প্রশাসন উদাসীন।”
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন,
“প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা দোষীদের বিচার দাবি করছি এবং শিগগিরই কর্মসূচি ঘোষণা করব।”
প্রশাসনের বক্তব্য
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন,
“আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। এখন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
চবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন কার্যক্রমে আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থী মহলে।

