পদোন্নতি সাক্ষাৎকার ঘিরে চবি শিক্ষক অবরুদ্ধ: ছাত্রসংগঠনের বিক্ষোভে তিন ঘণ্টার অচলাবস্থা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতির সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দিতে গেলে তাঁকে ঘিরে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁকে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের গাড়িতে নিরাপদে বাসায় পাঠাতে হয়।
কুশল বরণ চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক। শুক্রবার বিকেল তিনটায় তাঁর সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপকে পদোন্নতির সাক্ষাৎকার ছিল। তবে দুপুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। তাদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল চারটার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা কুশল বরণ চক্রবর্তীর পদোন্নতি বোর্ড বাতিল এবং তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্তের দাবি জানান। এমন অবস্থার মধ্যেই তিনি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
কুশল বরণ চক্রবর্তীর দাবি, “একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে আমাকে হেনস্তা করেছে। আমি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বরং সহ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আমাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন।”
সন্ধ্যার দিকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় শিবির নেতা হাবিবুল্লাহ খালেদ উত্তপ্ত ভাষায় কথা বলছেন এবং অন্যরা হইচই করছেন। তাদের সামনে উপস্থিত কুশল বরণ চক্রবর্তী, পাশে উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহইয়া আখতারসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, উপাচার্য চুপচাপ চেয়ারে বসে আছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যরা সাড়া দেননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “মব সৃষ্টির অভিযোগ ভিত্তিহীন। বরং কুশল বরণ নিজেই শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছেন। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।”
এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী বলেন, “কুশল বরণ চক্রবর্তী ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন এবং দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়েছেন। তাই ছাত্রসমাজ তাঁর পদোন্নতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”
ঘটনাটি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, মতভেদ থাকলেও এভাবে একজন শিক্ষককে ঘিরে হট্টগোল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
