আনুপাতিক নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরশাসন প্রতিরোধ: ওয়েবিনারে বিশিষ্টজনেরা
Fazlul Kabir জুলাই ১, ২০২৬![]()
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৪: সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে এক ওয়েবিনারে দেশের বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, স্বৈরশাসন প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা হবে আনুপাতিক নির্বাচন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান এ পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রেহমান সোবহান বলেন, “যে কোনও সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তবেই তার ফল পাওয়া যাবে।” তিনি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান যুক্তি দেন যে, রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ১১টি প্রস্তাবের মধ্যে ৭টি আনুপাতিক নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “এটি কার্যকরী হলে দেশের বহু সমস্যার সমাধান হবে।” সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার গুরুত্বারোপ করেন যে, কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনও জরুরি।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, ওয়েবিনারে বলেন, “স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং এর জন্য ৩০-৪০% জাতীয় বাজেটের অংশ স্থানীয় সরকারের জন্য নির্ধারণ করা উচিত।” তিনি মেয়াদ হ্রাস করে চার বছরের জন্য নির্বাচনের পক্ষে মত দেন।
বক্তারা সম্মত হন যে, রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। রওনক জাহান বলেন, “শুধু আইন বা রিপোর্ট তৈরি করলেই হবে না; বাস্তবায়ন ও টেকসইতার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী কমিটমেন্ট প্রয়োজন।”
এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বিশিষ্টজনেরাও রাজনৈতিক সংস্কার ও স্থানীয় সরকারের উন্নয়নের ওপর আলোচনা করেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জরুরি।