র্যাগ দেয়াকে কেন্দ্র করে চবি’তে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, আহত ১৫, তদন্ত কমিটি গঠন
জুনিয়র এক কর্মীকে র্যাগ দেয়াকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও আবাসিক হলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টায় উপাচার্য দফতরের সিনেট কক্ষে এক জরুরি সভায় এ কমিটি করা হয়। এর আগে বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মাস্টারদা সূর্যসেন হলে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চবি সূত্র জানায়, সংঘর্ষে জড়ানো দুইটি গ্রুপ হচ্ছে- সিক্সটি নাইন ও এপিটাপ। গ্রুপ দু’টি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারি। এপিটাপ গ্রুপ সিক্সটি নাইন গ্রুপের ২০২০-২১ সেশনের এক কর্মীকে র্যাগ দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় হলের ক্যান্টিনসহ ১৩টি কক্ষ, ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের ৫ টি কক্ষ ও দুইটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সিক্সটি নাইনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও একটি ককটেল বিস্ফোরণ করে তারা। এ ঘটনায় ক্যান্টিনের কর্মচারী জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, উপ-উপাচার্য প্রফেসর বেনু কুমার দে, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান ও প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া। তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর আবুল মনছুরকে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পরিচালক ড. জারিন আক্তার, মাস্টারদা সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. তড়িৎ কুমার বল, চবি কলেজ পরিদর্শক শ্যামল রঞ্জন চক্রবর্তী ও সহকারী প্রক্টর এসএ এম জিয়াউল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. তড়িৎ কুমার বল। তিনি বলেন, রাতে ছাত্রলীগের একাংশ হামলা চালিয়েছে হলে। এতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, এক ছাত্রকে র্যাগ দেওয়া কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রক্টর বলেন, এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। যেই দোষ করে থাকুক, কেউ ছাড় পাবে না। দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে পরিবেশ ও বনবিদ্যা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনে জড়ো হয়। দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপ-উপাচার্য বেনু কুমার দে ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার বিচারের দাবিতে হলের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। পরে উপ-উপাচার্যের আশ্বাসে তারা অবস্থান ত্যাগ করেন।
# ২৪.০২.২০২২ চট্টগ্রাম #
