বিজন ভাবনা

বিজন ভাবনা (৫১): যুদ্ধ ও পুতিনের ইন্টার্ভিউ   -বিজন সাহা

গত কয়েকদিন যাবত রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। একদিকে ইউরোপ আদা জল খেয়ে নেমেছে যে করেই হোক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে। এমনকি স্টারমার পদত্যাগ করেও সামরিক বাজেট বৃদ্ধি করেছেন সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে শত সহস্র ড্রোন আসছে ইউক্রেনে। এসব ড্রোন দিয়ে ইউক্রেন অনবরত আক্রমণ করে যাচ্ছে রাশিয়ায় সামরিক, বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা। আক্রমণ করছে তেল শোধনাগার। ফলে তৈরি হয়েছে তেল সংকট। মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে পেট্রল কেনার জন্য। সমাজে কিছুটা হলেও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন উপলক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। সবশেষে তিনি পাভেল জারুবিনকে এক দীর্ঘ ইন্টার্ভিউ দেন। এর আগে দেশের বিভিন্ন বৃহৎ পেট্রল কোম্পানির মালিককদের সাথে তিনি দেখা করেন, দেশে পেট্রল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ইন্টার্ভিউতে তিনি স্বীকার করেন যে ক্রিটিক্যাল অবকাঠামোতে, বিশেষ করে এনার্জি সেক্টরের অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বিভিন্ন রকমের সমস্যা তৈরি করেছে, দেশে তেল সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্যেই এই সেক্টরের মালিকদের সাথে কথা হচ্ছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে এই অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য। এখনও পর্যন্ত

তেলের মজুত যথেষ্ট। গত বছর এই সময়ের প্রায় ৯৬%। তবে আক্রমণের ফলে লজিস্টিক সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাই শুধু মজুত থাকলেই চলবে না, নিরাপদে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিতে হবে। প্রায়োরিটি সৃষ্ট সংকট সমাধান করা, সরকার বিভিন্ন উপায় নিয়ে ভাবছে। বিদেশে পেট্রল, ডিজেল এসব রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে, হবে। এমনকি বিদেশ থেকে শোধিত তেল আমদানি করার কথা ভাবা হচ্ছে। ভারত, কাজাখস্তান এসব দেশের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এসব করতে হবে সতর্কতার সাথে যাতে সেই সমস্ত দেশ ইউরোপ আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কবলে না পড়ে এবং নিরাপদে এসব জ্বালানি বিভিন্ন শহরে পৌঁছে দেয়া যায়। ক্রিমিয়া ও সেভাস্তোপোলের অবস্থা এদিক থেকে বেশ নাজুক। সেখানে কখনই বড় তেল শোধনাগার ছিল না। ক্রিমিয়ার এনার্জি সেক্টর মানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, জল – এসবই রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধে প্রবলতা বাড়ায় স্থলপথে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রিমিয়ার সেতু পথেও পাঠানো হচ্ছে না নিরপত্তার কারণে। তবে সরকার স্থলপথে হোক আর জলপথে হোক ক্রিমিয়া ও সেভাস্তোপোলে জ্বালানি পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। পশ্চিমা বিশ্বের কিছু সামরিক বিশেষজ্ঞ ঘোষণা করেছে যে ক্রিমিয়াকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে হবে। ইউক্রেনের বর্তমান কৌশল মনে হয় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার অংশ। তবে রাশিয়া এত সহজে সেটা করতে দেবে বলে মনে হয় না। ক্রিমিয়ার মাসিক প্রয়োজন ৭০ হাজার টন পেট্রল, বর্তমানে মাত্র কয়েক দিনের জ্বালানি মজুত আছে। তবে ক্রিমিয়া যে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে সে ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের কোন সন্দেহ নেই। তবে এ জন্য দরকার যুদ্ধের সাথে জড়িত সমস্ত সংগঠনের পারস্পরিক বোঝাপড়া, ক্ষতিগ্রস্থ অবকাঠামো দ্রুত মেরামত করা, সাধারণ মানুষদের ড্রোন হামলার হাত থেকে রক্ষা করা, সাধ্যমত আক্রমণের ক্ষয়ক্ষতি কমানো।

আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় ইউক্রেনের সাথে সমস্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ, কিন্তু পিতেরবুরগের পুতিনের কথা শুনে মনে হয়েছিল সব কিছুর পরেও কিছু কিছু আলোচনা চলছে। এর উত্তরে পুতিন বলেন যে আলোচনা তো চলছেই, আর এর ফল স্বরূপ বন্দী বিনিময় হচ্ছে। রাশিয়া বিভিন্ন লাইনে ওদিক থেকে বিভিন্ন ধরণের প্রস্তাব পায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রেসিডেন্টের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে। জেলেনস্কি যে সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে চায় সেটা তো নতুন খবর নয়। এ ব্যাপারে রাশিয়া তার অবস্থান একাধিক বার ব্যক্ত করেছে। আলোচনার জন্য আলোচনা নয়, দীর্ঘ মেয়াদী শান্তির জন্য আলোচনা। সমস্যা হল কী ইউক্রেন, কী ইউরোপ তারা যুদ্ধ বিরতি চায় সেনাদের পুনর্বিন্যাস করার জন্য, শক্তি সংগ্রহ করে নতুন করে যুদ্ধ করার জন্য। এছাড়া ফ্রন্ট লাইন বরাবর যুদ্ধ বিরতি ঘোষণাও নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাশিয়া যখন প্রতিটি ফ্রন্টে শত্রুকে কোণঠাসা করছে, একটু একটু করে ভূমি উদ্ধার করছে তখন কি দরকার সেই বিরতির? তবে কিছু নতুন প্রস্তাবও আছে। এর একটি পরস্পরের টেরিটরির গভীরে আক্রমণ না করা। কেন? এটা ঠিক ইউক্রেনের আক্রমণ ইতিমধ্যে জ্বালানি সরবরাহে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করেছে, বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত সাধারণ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেক্ষেত্রে এই প্রস্তাব লোভনীয় মনে হতে পারে। কিন্তু ইউক্রেনের আক্রমণের উত্তরে রাশিয়া যে পালটা আঘাত হানছে সেটা অনেক বেশি ইফেক্টিভ, অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক, অনেক বেশি স্পর্শকাতর। ইউক্রেনের এনার্জি সেক্টর ধ্বংসপ্রায়। এসব আঘাত ইউক্রেন রাষ্ট্রের ভিত নাড়িয়ে দেয়। তাই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এই প্রস্তাবের লক্ষ্য শান্তি নয়, নিজেদের নাজুক অবস্থা কিছুটা হলেও লাঘব করা। এছাড়াও প্রস্তাব আছে যুদ্ধ দানিয়েৎস্ক, লুগানস্ক, হেরসন ও জাপারোঝিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা। অন্য সমস্ত এলাকায় যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এই প্রস্তাব রাশিয়ার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। কারণ রাশিয়া প্রথম থেকেই এই চার এলাকায় যুদ্ধ সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে ছিল। তাহলে এখন কেন ইউক্রেন এরকম প্রস্তাব দিচ্ছে? কারণ তাহলে তারা খারকভ, দনেপ্রো-পেত্রোভস্ক, নিকোলায়েভ ও সুমস্কি এলাকা থেকে সেনাদের এই চার অঞ্চলে নিয়ে এসে নিজেদের শক্তিশালী করতে পারবে। আসলে ইউক্রেনে যখন সেনার অভাব প্রকট, লোকজন যখন যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে ইউরোপে চলে যাচ্ছে, তখন এ ধরণের চুক্তি ইউক্রেন সেনাবাহিনীর জন্য অনেকটা লাইফ বোট। এটা জেলেনস্কির রেজিম টিকে থাকতে সাহায্য করবে। কিন্তু জেলেনস্কির রেজিম টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা রাশিয়া নেই। প্রশ্ন উঠে যে খারকভ ও অন্যান্য এলাকায় যেসব ভূমি রুশ সেনাদের অধীনে তার কি হবে। এ নিয়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন চিন্তাভাবনা নেই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে রাশিয়া সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। ইউক্রেন কুরস্ক আক্রমণের আগে পর্যন্ত রাশিয়া এই চার অঞ্চলের বাইরে যুদ্ধ করেনি। যুদ্ধের শুরুতে কিয়েভের উপকণ্ঠে রাশিয়া সেসব এলাকা দখল করে, ইস্তাবুল চুক্তি স্বাক্ষরের প্রাক্কালে সেসব মুক্ত করে দেয়। পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা। কুরস্ক আক্রমণ করে ইউক্রেন নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। রাশিয়া তার সীমান্ত এলাকায় বাফার জোন সৃষ্টি করবে। তাই রুশ সীমান্ত বরাবর ২০-৩০ কিলোমিটার প্রশস্ত করিডোর তৈরি করা হবে যেন ইউক্রেন সহজে রুশ জনপদে আঘাত হানতে না পারে। কুরস্ক আক্রমণের জন্য ইউক্রেনকে চরম মুল্য দিতে হবে। তবে ইউক্রেন দনবাস ও নভরাশিয়া থেকে রাশিয়ার মনোযোগ সরানোর জন্য  যে কোন অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

পড়ুন:  বিজন ভাবনা(৫০) যুদ্ধের রোজনামচা   -বিজন সাহা

খারকভের সুমা শহর থেকে মাত্র ৩-৪ কিলোমিটার দূরে রুশ সেনারা অবস্থান করছে। ত্রিশ হাজার বাড়ির এই শহর খুব শীঘ্রই রুশ বাহিনীর অধীনে আসবে। ক্রাসনি লিমানস্ক পতনের পথে। এটা সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারগুলোর একটি। এই শহরের ১১ হাজার বাড়ির মধ্যে মাত্র ১৪৯ টি বাড়ি মুক্ত করা বাকি। ক্রামোতরস্ক, আলেক্সেয়েভ-দ্রুঝকভা ইত্যাদি বড় বড়  রুশ সেনারা অবরোধ করে আছে। এখন তাদের সামনে একটি পথই খোলা, হয় আত্মসমর্পণ না হয় মৃত্যুবরণ। ২০১৪ সালে থেকে ইউক্রেন এসব এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যুহ গড়ে তোলে। এসবের একটি বিরাট অংশ সোভিয়েত আমলে তৈরি। ফলে এসব ধ্বংস করা বেশ কষ্ট সাপেক্ষ। তবে আর মাত্র দুই তিনটি শহর দখল করতে পারলে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়বে। তবে সবচেয়ে বড় কথা তাড়াহুড়ো না করা, নিজদের লোকজন যথা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখা। বর্তমানে ১৫ টি রণক্ষেত্রে রুশ সেনারা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন একটু একটু করে দনবাসের ভূমি শত্রু মুক্ত করছে। তবে রাশিয়া অন্যদের প্রস্তাব শুনতে আগ্রহী। চুক্তির মাধ্যমেই হোক আর যুদ্ধ করেই হোক দনবাস, হেরসন ও জাপারোঝিয়ার সমস্ত ভূমি রাশিয়া উদ্ধার করবে। পশ্চিমা বিশ্ব বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করবে ইউক্রেনকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে। বিভিন্ন চুক্তির প্রলোভন দেখাবে। তবে রাশিয়া ঠকতে ঠকতে শিখেছে যে ওদের বিশ্বাস করা কতটুকু ক্ষতিকর।

ইউক্রেন ইউরোপের ড্রোন দিয়ে বেসামরিক মানুষ হত্যা করছে আর ইউরোপের নেতারা এতে উল্লাস প্রকাশ করছে। তারা বলছে ইউক্রেন যুদ্ধে জয়লাভ করছে। কিন্তু তাই যদি হয় কোথায় সেই টেরিটোরি যা ইউক্রেন সেনারা উদ্ধার করেছে? মাঝেমধ্যে শত্রু সেনারা রুশ সেনাদের ইউনিফর্ম পরে রুশ সেনাবাহিনী দ্বারা অবরুদ্ধ এলাকায় ঢুকে পড়ে। ইউরোপ বিশ্বাস করে যে রাশিয়াকে স্ট্র্যাটেজিক্যালি পরাজিত করা সম্ভব। আর যদি তাদের ভাষ্যমতে ইউক্রেন যুদ্ধে জিতে তাহলে কেন শান্তি চুক্তি, কেন যুদ্ধ বিরতি? বার বার পশ্চিমা বিশ্ব এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে রাশিয়া বাধ্য হয়েছে যুদ্ধ শুরু করতে। এমনকি হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করার পরেও প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়েছে যে সোভিয়েত ইউনিয়ন জার্মানি আক্রমণ করেছে। রাশিয়া আর ঐ ফাঁদে পা দেবে না।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিভিন্ন বক্তব্য ও ইন্টার্ভিউয়ে স্পষ্ট বোঝা গেছে যে রাশিয়া তার লক্ষ্য থেকে এতটুকু সরে আসেনি। তবে সামারে প্রচুর লোকজন দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেস্ট নিতে যায়, শুরু হয় খামারের কাজ। এই সময় জ্বালানি সংকট সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ায় না। যদিও ভারত সব অন্যান্য দেশ থেকে জ্বালানি কেনার কথা হচ্ছে, তবে পেট্রল পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন বলে যে সমস্যা সমাধান থেকে অনেক দূরে। এছাড়া পুতিনের কিছু বৈশিষ্ট্য যা আগে তাঁকে জনপ্রিয় করেছিল সেটা নিয়ে কথা উঠছে। এদের একটা কোন অবস্থাতেই কোন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যা না করা। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ সরাসরি বলছে যে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করার জন্য রাশিয়ার উচিৎ ইউক্রেনের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ধ্বংস করা যেমনটি করেছে আমেরিকা। তাই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে মানুষের মধ্যে তত বেশি প্রশ্ন তৈরি হবে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে সেটা প্রভাব ফেলতে পারে। আমেরিকা নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে নিলেও সে আসলে যুদ্ধ থেকে নিজেকে একেবারে গুটিয়ে নেয়নি, অন্যদিকে ইউরোপ সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করছে যুদ্ধের রথে গতি সঞ্চার করতে, যা যুদ্ধকে শুধু দীর্ঘ নয়, বিধ্বংসী করে তুলবে। তাই অপেক্ষা করতে হবে, তবে সে অপেক্ষা সুখের হবে নাকি দুঃখের সেটা শুধু ভবিষ্যৎ বলতে পারে।

গবেষক, জয়েন্ট ইনস্টিটিউট ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ
শিক্ষক, রাশিয়ান পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটি, মস্কো