চলমান সংবাদ

প্রায় কোটি টাকার জেট ফুয়েল গায়েব: কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

দেশে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত Padma Oil Company Limited–এর প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের জেট ফুয়েল গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport–এর কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে নেওয়ার পথে চারটি ট্যাংক লরিভর্তি ৭২ হাজার লিটার জ্বালানি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ।

সূত্র জানায়, ১১ মার্চ পৃথক চালানে মোট ১৭৭টি ট্যাংক লরি জেট ফুয়েল নিয়ে কুর্মিটোলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি লরির তথ্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মেইন গেট ও পদ্মা অয়েলের নিজস্ব গেটে আলাদা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করার কথা। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, চারটি লরির প্রবেশের কোনো প্রমাণ সিভিল এভিয়েশনের রেজিস্টার বা সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যায়নি। তবু ডিপোর রেজিস্টারে ভুয়া এন্ট্রি দেখিয়ে জ্বালানি গ্রহণের হিসাব সম্পন্ন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৮১ লাখ টাকার এই জেট ফুয়েল বাইরে বিক্রি করে একটি সিন্ডিকেট ভাগবাটোয়ারা করেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডিপোর কিছু কর্মকর্তা–কর্মচারীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এমন ঘটনা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকায় কয়েকজন কর্মীর প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে জ্বালানি পাচারের অভিযোগে Bangladesh Petroleum Corporation তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে সেই তদন্তের কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলেও পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায় পদ্মা অয়েলের উপ–মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) শফিউল আজমকে প্রধান করে তিন সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ইনচার্জ সাইদুল হককে তাৎক্ষণিকভাবে বদলি করা হয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো একটি সংবেদনশীল কেপিআই স্থাপনা। এখান থেকে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।