রাশিয়ার তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় চায় বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে ভারতকে রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে, বাংলাদেশও ওয়াশিংটনের কাছে একই ধরনের সুযোগ চেয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বলেছি যে বাংলাদেশকে যদি একই সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য বড় সহায়তা হবে।” এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিষয়টি ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমার পুরোনো বন্ধু অর্থমন্ত্রী খসরু ও আমি দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো খতিয়ে দেখেছি।”
রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর দেশটির ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো। এর আওতায় রাশিয়ার তেল কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখালে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতকে সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই ধরনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে বলে মনে করছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি। “বাণিজ্যচুক্তি দুটি দেশের মধ্যকার বিষয়। এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করছে বলেও জানান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, সংঘাত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি নাকি দীর্ঘমেয়াদি হবে—সব দিক বিবেচনায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
