চলমান সংবাদ

১৫ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস প্রদানের দাবি: বার আউলিয়ায় জাহাজভাঙা শ্রমিকদের সমাবেশ ও মানববন্ধন


ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে জাহাজভাঙা শিল্পের শ্রমিকদের উৎসব বোনাস প্রদানের দাবিতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার বার আউলিয়ার হাফিজ গেইটে সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ফোরামের যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং বিএমএফ এর যুগ্ম সম্পাদক মো: আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কোষাধক্ষ রিজওয়ানুর রহমান খান, দিদারুল আলম চৌধুরী, মাহবুবুল হক চৌধুরী, ফজলুল কবির মিন্টু, কে এম শহিদুল্লাহ. মানিক মন্ডল এবং মো: রাজুসহ অন্যান্য শ্রমিকনেতারা।

বক্তারা বলেন, কেন্দ্রীয় টিসিসি সভায় আগামী ১২ মার্চের মধ্যে শ্রমিকদের ঈদুল ফিতরের বোনাস পরিশোধের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে শিল্পের স্বার্থ বিবেচনায় আজকের সমাবেশ থেকে সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়িয়ে ১৫ মার্চের মধ্যে সকল শিপইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত ইয়ার্ড ছাড়া অধিকাংশ জাহাজভাঙা ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে শ্রমিকদের ঈদ বোনাস প্রদান করে না। ফলে প্রতি বছরই অনেক শ্রমিকের ঈদ উদযাপন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, দেশের জাহাজভাঙা শিল্প বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। দেশে ১৫০টিরও বেশি জাহাজভাঙা ইয়ার্ড নিবন্ধিত থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ২৩টি ইয়ার্ড “সবুজ” হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আরও কিছু ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মান অর্জনের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সবুজায়ন প্রক্রিয়ায় শ্রমিক ও তাদের সংগঠনগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও শ্রমিকদের জীবনমান, মজুরি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি।

বক্তারা বলেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও জাহাজভাঙা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনও অত্যন্ত নিম্ন। ২০১৮ সালে ঘোষিত নূন্যতম মজুরি অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি গঠিত নূন্যতম মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের জন্য মাসিক ২২ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরি ঘোষণা করলেও জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে ৩৬ হাজার টাকা নূন্যতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। বক্তাদের মতে, ৩৬ হাজার টাকা বাস্তবায়ন না হলে শ্রমিকদের জন্য তা ন্যায্য হবে না।

সমাবেশে বক্তারা জাহাজভাঙা শিল্পের সবুজায়ন প্রক্রিয়াকে প্রকৃত অর্থে “ন্যায্য উত্তরণ” (Just Transition) হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, লিখিত নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, সাপ্তাহিক ছুটি এবং শোভন কাজের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ থেকে শ্রমিকনেতারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো – জাহাজভাঙা শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরি ৩৬ হাজার টাকা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, সকল শ্রমিককে লিখিত নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র ফ্রদান, সাপ্তাহিক ও সবেতন ছুটির নিশ্চয়তা এবং পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে জাহাজভাঙা শিল্পের সবুজায়ন কেবল বাহ্যিক রূপান্তর হিসেবেই থেকে যাবে। প্রকৃত অর্থে “ন্যায্য উত্তরণ” নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকের মর্যাদা, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষাকে শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।