চলমান সংবাদ

আওয়ামী লীগের তৎপরতা রুখতে ‘অবস্থা বুঝে’ ব্যবস্থা: মাঠপুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘অবস্থা বুঝে’ ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় হলে গ্রেপ্তার করতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর, বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতা–কর্মীরা সক্রিয় হতে শুরু করেন। বন্ধ কার্যালয় খোলার পাশাপাশি নানা কর্মসূচিতে তাঁদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। এ নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করণীয় বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ২২ ফেব্রুয়ারি ভার্চ্যুয়াল সভার মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কোনো তৎপরতা চলতে দেওয়া যাবে না; কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান এ–সংক্রান্ত একটি লিখিত নির্দেশনা জারি করেন। চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব নেতা–কর্মী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হতে পারেন—তাঁদের জামিনের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যাঁদের ক্ষেত্রে এমন সক্রিয়তার সম্ভাবনা নেই, তাঁদের জামিনের পর আপাতত নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির এই নির্দেশনা বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়। পরদিন বুধবার বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়া তিনজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ডিআইজির চিঠিটি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা দেখা গেছে। আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এমন নির্দেশনার যৌক্তিকতা ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।