এনসিটি ইস্যুতে আন্দোলনের জেরে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৪ শ্রমিক সাময়িক বরখাস্ত, বাসা বরাদ্দ বাতিল

এনসিটি ইস্যুতে চলমান কর্মবিরতির জেরে চট্টগ্রাম বন্দরের বদলিকৃত ১৫ জন শ্রমিক–কর্মচারীর মধ্যে ১৪ জনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল রোববার কয়েকজন শ্রমিক–কর্মচারীর হাতে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি তুলে দেওয়া হয়েছে। আজকের মধ্যেই বাকিদের বরখাস্তের চিঠি প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শ্রমিক–কর্মচারীদের মধ্যে যাদের নামে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আবাসিক ভবনের বাসা বরাদ্দ ছিল, সেসব বরাদ্দও বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জন শ্রমিক–কর্মচারীকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনকে পানগাঁও কন্টেইনার টার্মিনাল এবং কয়েকজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অবমুক্ত করে পরদিন বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওই বদলির আদেশ একদিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সেই স্থগিতাদেশ বাতিল করা হয়। ফলে ১৫ জন শ্রমিক–কর্মচারীর বদলির আদেশ বহাল থাকে। তবে বদলিকৃত কর্মস্থলে মাত্র একজন যোগদান করলেও বাকি ১৪ জন যোগ দেননি।
এ অবস্থায় বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করার অভিযোগে ১৪ জন শ্রমিক–কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে রোববার কয়েকজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আজ বাকিদের বরখাস্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকন বন্দর কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী ও হয়রানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে সব বরখাস্ত, বদলি ও বাসা বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
