শ্রমিক নেতাদের বদলির প্রতিবাদে স্কপের জরুরি সভা -আগামীকাল বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল ও ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি সফল করার আহ্বান

আজ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার। সভা সঞ্চালনা করেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান হোসেন, টিইউসি কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, বন্দর শ্রমিক দলের অন্যতম নেতা ইব্রাহীম খোকন ও হুমায়ুন কবির, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, পাহাড়তলি উপকূলীয় মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সমীরন দাশসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় আজকের ঘোষিত কালো পতাকা মিছিল অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করে আগামীকাল সকাল ১১টায় আগ্রাবাদের বাদামতল থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সঙ্গে গতকাল ও আজ সফলভাবে কর্মবিরতি পালনের পর বন্দর শ্রমিকদের আগামীকালও ঘোষিত ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির কর্মসূচির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানানো হয়।
সভায় চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের অন্যতম নেতা হুমায়ুন কবির, ইব্রাহীম খোকনসহ চারজন শ্রমিক নেতাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক নেতাদের বদলি করা শ্রম আইন, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বক্তারা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, অবৈধ বদলি, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কোনোভাবেই বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে তুলে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের চুক্তি জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও শ্রমিকদের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সভা থেকে অবিলম্বে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের দমনমূলক পদক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাবে। তারা বলেন, আগামীকালের মধ্যে চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে না আসলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারী বন্দর অবরোধের কর্মসুচীও দেয়া হতে পারে।
সভায় গতকাল এবং আজ সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করায় বন্দর শ্রমিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং আগামীকাল ঘোষিত ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি ও চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল সফল করার জন্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের শ্রমিক, কর্মচারী ও সচেতন জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এই আন্দোলন কেবল শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার নয়, এটি জাতীয় স্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার সংগ্রাম।
সভায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
