চলমান সংবাদ

স্কপের সভায় আগামীকাল বন্দর অভিমুখী কালো পতাকা মিছিল সফল করার আহ্বান

আজ বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন। সভা সঞ্চালনা করেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির, টিইউসি কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

সভায় চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিকদের অন্যতম নেতা হুমায়ুন কবির, ইব্রাহীম খোকনসহ চারজন শ্রমিক নেতাকে স্ট্যান্ড  রিলিজ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানানো হয়। বক্তারা বলেন, আন্দোলন দমনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক নেতাদের বদলি করা শ্রম আইন, নৈতিকতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

শ্রমিক নেতারা দৃঢ়ভাবে বলেন, অবৈধ বদলি, হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কোনোভাবেই বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে তুলে দেওয়া যাবে না। এই ধরনের চুক্তি জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও শ্রমিকদের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সভা থেকে অবিলম্বে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের দমনমূলক পদক্ষেপ বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যাবে।

সভায় আগামীকাল ঘোষিত ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি এবং চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল সফল করার জন্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের শ্রমিক, কর্মচারী ও সচেতন জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শ্রমিকদের নয়, এটি জাতীয় স্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার আন্দোলন।

এছাড়া সকল হুমকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আজ সফলভাবে কর্মবিরতি পালন করায় চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিকদের প্রতি সভা থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানানো হয়। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।