একাত্তরে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই
নয়াদিল্লি, রোববার: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খ্যাতনামা সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি আর নেই। আজ রোববার ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বিবিসি হিন্দির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মার্ক টালি গত শতকের ষাটের দশক থেকে দীর্ঘদিন বিবিসির ভারত ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিবিসি থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
ভারতে বিবিসির হয়ে দায়িত্ব পালনের সময় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি বাঙালিদের পাশে দাঁড়ান। তখন তিনি ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা। সীমান্তবর্তী শরণার্থীশিবির ও বিভিন্ন জেলা ঘুরে তিনি বাঙালিদের দুর্দশা ও যুদ্ধের বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
মার্ক টালির পাঠানো প্রতিবেদন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।
ভারত সরকারও তাঁকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মাননায় ভূষিত করে। নিজ দেশ যুক্তরাজ্য থেকে তিনি নাইটহুড খেতাব লাভ করেন।
১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন মার্ক টালি। শৈশব কলকাতায় কাটালেও ৯ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। সেখানে স্কুল–কলেজে পড়াশোনা করেন। একসময় সেনাবাহিনীতেও যোগ দিয়েছিলেন, তবে পরে তা ছেড়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও ধর্ম বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন, যদিও সেই পড়াশোনা সম্পন্ন করেননি।
১৯৬৪ সালে তিনি বিবিসিতে যোগ দেন এবং পরের বছর দিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে অবসর নেওয়ার আগে প্রায় ২০ বছর দিল্লিতে বিবিসির ব্যুরোপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মার্ক টালির স্ত্রী মার্গারেট ও চার সন্তান লন্ডনে থাকলেও তিনি নিজে দীর্ঘদিন ভারতে বসবাস করতেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বই রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— অমৃতসর: মিসেস গান্ধীস লাস্ট ব্যাটল, রাজ টু রাজিব: ফর্টি ইয়ার্স অব ইন্ডিয়ান ইনডিপেনডেন্স, নো ফুল স্টপ ইন ইন্ডিয়া, আনএন্ডিং জার্নি, ইন্ডিয়া: দ্য রোড অ্যাহেড এবং হার্ট অব ইন্ডিয়া।
মুক্তিযুদ্ধে সত্য ও মানবতার পক্ষে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য মার্ক টালি বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণীয় বন্ধু হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

