চলমান সংবাদ

জাহাভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

-সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

-দোষীদের শাস্তি ও আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি

গত ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা এলাকায় অবস্থিত কে আর শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সাইফুল (২৫) ও রতন (২৭) নামে দুইজন জাহাজভাঙা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত দু’জনই ওয়্যার গ্রুপের শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে জাহাজ বিচিং কার্যক্রম চলাকালে একটি বোট থেকে সিগনাল দেওয়ার সময় জাহাজ ও বোটের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে বোটটি জাহাজের নিচে তলিয়ে যায় এবং দুই শ্রমিকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
গতকাল বিকাল ৩টায় জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত, যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য মো. আলী, বিএমএসএফ-এর যুগ্ম সম্পাদক মো. ইদ্রিছ এবং জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাতের বেলায় ঘন কুয়াশার মধ্যে জাহাজ বিচিং করার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। জাহাজভাঙা শিল্প একটি উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প হওয়া সত্ত্বেও মালিকপক্ষ বারবার সতর্কতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো করে কাজ করাচ্ছে। এর ফলে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, ফোরাম ও সেফটি কমিটির পক্ষ থেকে বহুবার বলা হয়েছে—জাহাজ কাটার সময় যেন কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো না করা হয় এবং নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানা হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ তা মানছে না। অবিলম্বে এই দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী একজন মানুষের জীবনের সমপরিমাণ পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়া শ্রমিক নেতারা বলেন, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে প্রচার করে মূল ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এ ধরনের অপচেষ্টা জাহাজভাঙা শিল্পের প্রকৃত নিরাপত্তা সংকট আড়াল করার শামিল। এতে কোনোভাবেই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ নিহত শ্রমিকদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তবেই একটি টেকসই ও নিরাপদ জাহাজভাঙা শিল্প নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।