চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভোররাতে গুলিবর্ষণ, মুখোশধারীদের তাণ্ডবে চন্দনপুরায় আতঙ্ক

চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ভয়াবহ এক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে ভোররাতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে এসে তারা এ হামলা চালায়। ঘটনার সময় বাড়িতে ব্যবসায়ীসহ তার পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করলেও সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হননি।
চকবাজার থানা পুলিশ জানায়, ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল বাড়ির সামনের অংশ ও পেছনের দিকে অবস্থান নিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রাথমিকভাবে এটিকে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট গ্রুপের পরিচালকদের কাছে গত কয়েকদিন ধরে দুবাইভিত্তিক একটি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা অন্য কাউকে অবহিত করেননি। তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক আলামতে হামলাকারীরা চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী বাহিনীর অনুসারী হতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, দেড় মাস আগে বড় সাজ্জাদ পরিচয়ে একটি বিদেশি নম্বর থেকে দুই দফা ফোন করে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি। হামলার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এসে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদ আলী দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছেন। ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম রয়েছে, যেখানে তিনি সাজ্জাদ হোসেন খান নামে তালিকাভুক্ত। চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে তার অনুসারীরা নিয়মিত গুলিবর্ষণ ও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশসহ নগরের বিভিন্ন থানা এলাকা এবং হাটহাজারী ও রাউজানের মতো উপজেলায় এই বাহিনীর প্রভাব রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। গত দেড় বছরে জোড়া খুনসহ অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনার পর চন্দনপুরা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
