চলমান সংবাদ

চট্টগ্রামে এশিয়ান আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে “নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার” বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি সম্পন্ন


“আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ—তাদের সুস্থ, মেধাবী ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভেজালমুক্ত নিরাপদ খাবারের বিকল্প নেই”—এ কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, ভেজাল খাদ্য শুধু শারীরিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি জাতির মেধা ও নৈতিকতার অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ।

বুধবার নগরীর এশিয়ান আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে “নিরাপদ খাদ্য ও ভোক্তা অধিকার বিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচি” অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহানুল ইসলাম

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক রাসেল উদ্দীন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. নাজের হোসাইন, দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা সম্পাদক আবু মোশারফ রাসেল, এশিয়ান আবাসিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ওসমান সরোয়ার, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, আইএসডিই বাংলাদেশের মনিটরিং অফিসার সুপম বড়ুয়া, এবং ক্যাব যুব গ্রুপ চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য আবরার করিম নেহালসালমান রশিদ অভি

বক্তারা বলেন, খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ ও মানহীন পণ্য বিক্রির মাধ্যমে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশকে ভেজালের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পথঘাটেও চলছে নানান ক্যামিকেলযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি। খবরের কাগজে মুড়িয়ে বা ধুলাবালির মধ্যেও এসব খাবার বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তারা আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অনিয়ম ও অপতৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তাই প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে অনিরাপদ খাদ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

কর্মসূচিতে নিরাপদ খাবার গ্রহণ, অনিরাপদ খাবার বর্জন, হাত ধোয়ার অভ্যাস, প্লাস্টিকজাত পণ্য পরিহার, ও পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা আহ্বান জানান—পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

বক্তাদের মতে, চট্টগ্রাম শহরের অনেক নামীদামি রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান ও বেকারিতে অভিযানে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ পেলেও পরে তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে নিরাপদ খাদ্যের প্রতি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসী।
স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠনের স্বার্থে ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।