চলমান সংবাদ

জুলাই আন্দোলনের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ

-তিনি বললেন, “প্রথম অংশ অবশ্যই মেটিকুলাসলি ডিজাইনড, পরের অংশ ছাত্র–জনতার কৃতিত্ব”

জুলাই গণআন্দোলন সম্পর্কে আলোচিত মন্তব্য দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম অংশ অবশ্যই মেটিকুলাসলি (সূক্ষ্মভাবে) ডিজাইনড। তবে পরের অংশের কৃতিত্ব বিপ্লবী ছাত্র–জনতার।”

শুক্রবার (৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, ৫ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সময়কাল অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব গঠনের সময়, যেখানে মেটিকুলাস ডিজাইন কাজ করেছে। আর ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যকার সময় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার, আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, জুলাই অভ্যুত্থনের সঙ্গে “মব ভায়োলেন্স”-এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি “সামাজিক ফ্যাসিবাদ” এবং তা শেখ হাসিনার ১৬ বছরের “রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদের প্রতিক্রিয়া” বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা লিখেছেন, “অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য না থাকলে বিপ্লবী ছাত্র–জনতা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারত না।” তার দাবি, ২ আগস্ট রাতে সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তবে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব তা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।

মাহফুজ আরও বলেন, “পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ৭১-এর অসহযোগ আন্দোলন—সবই ছিল সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পিত। তাহলে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান পরিকল্পিত হলে সমস্যা কোথায়?”

তথ্য উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশি শক্তির জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করে দেন। তার ভাষায়, “জাতিসংঘের বক্তব্য ছাড়া কোনো বিদেশি শক্তি, এমনকি সামরিক বাহিনীরও বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা ছিল না। ৩ জুলাইয়ের এক দফা ঘোষণার আগ পর্যন্ত এটি ছিল সম্পূর্ণ দেশীয় নেতৃত্বে পরিচালিত জনঅভ্যুত্থান।”

জুলাই অভ্যুত্থনের নেতৃবৃন্দ ও অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী, সিরাজুল আলম খান, তাজউদ্দিন, এমনকি শেখ মুজিব যদি পাকিস্তানকে পরাজিত করতে সূক্ষ্ম পরিকল্পনার অংশ হয়ে গর্বিত হতে পারেন, তাহলে এই প্রজন্ম কেন গর্বিত হতে পারবে না?”

তিনি আরও বলেন, “মব মানে উদ্দেশ্যহীন, প্রতিশোধপরায়ণ, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী। বিপরীতে, জুলাইয়ের বিপ্লবী ছাত্র–জনতা ছিল গণতন্ত্র ও মানবাধিকারপ্রসূত আন্দোলনের ধারক।”

মাহফুজ দাবি করেন, “দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায় গত ৫৩ বছর বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘু, ছাত্র ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর মব আক্রমণ হয়েছে। শাহবাগ আন্দোলন, ’৯৬ এর জনতার মঞ্চ, ২৮ অক্টোবরের ঘটনা—সবই এক অর্থে মব জাস্টিস।” কিন্তু, “জুলাইয়ের ছাত্র–জনতা পুলিশের অনুপস্থিতিতেও দেশকে এক–দেড় মাস নিরাপদ রেখেছে। এটা মবোক্রেসি নয়, এটি দায়িত্বশীল বিপ্লব।”

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের এই পোস্ট দেশে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন বলে জানা গেছে।